দেশ এখন মুক্তিযুদ্ধের ধারায় নেই – মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দেশ এখন মুক্তিযুদ্ধের ধারায় নেই। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন দেশ চলবে সমাজতন্ত্রের ধারায়। খন্দকার মোশতাক মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি নষ্ট করে দিয়ে গেছে। জিয়াউর রহমান এই পথ একেবারে বন্ধ করে যায়। মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা বিএনপি তো পারবেই না, আওয়ামী লীগ দিয়েও হবে না। এজন্য মানুষকে জাগাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে ফেরাতে না পারলে দেশ এগুবে না।
সুনামগঞ্জে সোমবার এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সকালে এই সমাবেশের আয়োজন করে জেলা কমিউনিস্ট পার্টি। এতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজন অংশ নেন।
ডাকসুর সাবেক এই ভিপি আরও বলেন, দেশে এখন বাজার অর্থনীতি চলছে। আটার দাম, চালের দাম, সয়াবিনের দাম বাড়ছে। মানুষের প্রকৃত আয় কমছে। মানুষ দরিদ্র হচ্ছে। সবই নাকি বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বাজারই যদি সব নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে সরকার থেকে কি লাভ। সরকারে চলে গেলেই হয়।
আওয়ামী লীগ নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, অনেক অনুপ্রবেশকারী বঙ্গবন্ধুর সাইনবোর্ড নিয়ে এখন আওয়ামী লীগের বড় নেতা হয়েছেন। ৭৫ এর পনেরো আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আমি যখন প্রতিবাদ মিছিল বের করি তখন অনেক আওয়ামী লীগের নেতা আমাকে বলেছিলেন, সেলিম তুমি প্রতিবাদ করতে যেও না, তারা বলেছিলেন প্রতিবাদ করলে মুস্তাকের আওয়ামী লীগ সরকারেরও পতন হবে। তারা তখন বুঝিয়েছিলো সেটিও তাদের সরকার, তাদের ভাষ্যে মনে হচ্ছিলো বঙ্গবন্ধু আত্মহত্যা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর চিন্তার ধারায় এগুচ্ছে না দেশ।
আমাদের সংগ্রামেও অনেক দেশ প্রেমিকরা যুক্ত হোন না। বলেন আপনাদেরকে রেক্সপেক্ট করি, তবে আপনাদের কাছ থেকে কিছু এক্সসেপ্ট করি না। কারণ আপনারা দুর্বল। আমি বলি আপনি আসেন, তাহলে সবল হবে। উত্তরে বলেন, আপনি আগে সবল হোন তারপর আসবো। এখন ডিম আগে না মুরগী আগে সেটিতো সকলেরই ভাবনায় থাকা উচিৎ।
জমি বর্গা দেয়া যায়, স্বার্থ বর্গা দেয়া যায় না। হাসিনাকেও নয়, খালেদাকেও নয়, সেলিমকেও নয়। কৃষক কৃষকের মতো তার স্বার্থ নিয়ে এগোতে হবে। ছাত্র ছাত্রদের মতো দাঁড়াতে হবে। ক্ষেতমজুর ক্ষেতমজুরের মতো দাঁড়াতে হবে। শ্রমিক তার মতো দাঁড়াতে হবে। শ্রেণি সংগ্রাম গণসংগ্রামের ধারা জোড়দার করে নতুন সামাজিক রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে।
সুনামগঞ্জের প্রবীণ রাজনীতিক রমেন্দ্র কুমার দে’র সভাপতিত্বে ও জেলা সিপিবির সভাপতি এনাম আহমেদের সঞ্চালনা সমাবেশে প্রবীণ শিক্ষক ধূর্জটি কুমার বসু, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শীলা রায়, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রবিউল লেইস, জেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি বিজন সেন রায়, সুনামগঞ্জ মুক্তিসংগ্রাম স্মৃতি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, জেলা গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির আহবায়ক রুহুল তুহিন, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গেরি ভট্টাচার্য, কবি ও লেখক ইকবাল কাগজী, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দে, সিপিবির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন, আইনজীবী প্রসেনজিৎ দে, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের জেলা যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা দুর্জয় দাস, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আসাদ মনি, সাধারণ সম্পাদক নিমাই সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।