যাদুকাটা নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলন

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
যাদুকাটার নদীর দু’তীরের বিভিন্ন স্থানে বালু পাথর উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী ও আশপাশের অর্ধশত গ্রাম ও হাজার হাজার একর ফসলি জমি। এক শ্রেণির অসাধু বালুখেকো চক্র নদীর তলদেশ থেকে বালু-পাথর উত্তোলন না করে প্রতিদিনই যাদুকাটা নদীর উভয় তীরের গ্রাম ঘাগটিয়া, বড়টেক, গড়কাটি, রাজারগাঁও, লাউড়েরগড়, বিন্নাকুলি, মাহারাম, মানিগাঁও, ঘাগড়া, পাঠানপাড়া, কুনাটছড়া, পিরিজিপুর সহ অর্ধশতাধিক নদী তীরবর্তী গ্রামের পাশে নদীর তীর কেটে বালু-পাথর উত্তোলন করায় গ্রামগুলো নদী ভাঙনের মুখে পড়ে ক্রমান্বয়ে বিলীন হচ্ছে। সেই সাথে বিলীন হচ্ছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। নদীর দু’তীর কেটে বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে এক সময়কার ক্ষীণপ্রায় যাদুকাটা নদীর দু’তীরের দুরত্ব পৌণে এক কিলোমিটার হয়েছে। যাদুকাটা ব্যাপক ভাঙ্গন শুধু যাদুকাটাতেই আর সীমাবদ্ধ নয় এর প্রভাব পড়েছে যাদুকাটার শাখা নদী বৌলাই নদীতেও। ২০১২ সালে পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিকসা গ্রামের ৩০ পরিবার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহারা হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় নদীর উত্তরপাড়ে জেগে ওঠা চরে নতুন করে বসতি স্থাপন করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করে লাল নিশান টানিয়ে জেগে ওঠা চর এলাকা সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছিল। সম্প্রতি যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু নেয়ায় নদীর ভাঙন আগের চেয়ে বর্তমানে তীব্র আকার ধারন করেছে। এ ভাঙনের ফলে উপজেলার মানচিত্র ক্রমশই ছোট হয়ে আসছে এবং কোটি কোটি টাকার ভূ-সম্পদ চিরতরে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অব্যাহত ভাঙনে বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে, লাউড়ের গড়ের একটি বিশাল গোচরন ভূমি, কবরস্থান, নোয়াহাট রেজিষ্ট্রি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অদ্বৈত প্রভূর আশ্রম, আনোয়ারপুর বাজার, বিন্নাকুলি বাজার, ফাজিলপুর বাজার ও বৌলাই নদী তীরবর্তী চিকসা গ্রাম। নদী ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে রয়েছে সোহালা, ঘাগড়া, গড়কাটি, পাঠানপাড়া, ঘাগটিয়া, পিরিজপুর, দক্ষিণকূল, নোয়াহাট, পাতারী, তিওরজালাল, বালিজুড়ি, মাহমুদপুর, বারুঙ্কা। ক্রমাগত নদী ভাঙনে এ উপজেলার এক সময়ের বিত্তবান পরিবারগুলো ফসলি জমি, বাগান, পুকুর হারিয়ে পরিণত হয়েছে সহায়-সম্বলহীনে। এ উপজেলার যাদুকাটা নদীর তীরের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। এ অবস্থা ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আরো অধিকতর মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি, বেসরকারি, ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন তথ্যসূেত্র ও সরেজমিন ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত কয়েক বছরে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে উত্তর বড়দল, বাদাঘাট ও বালিজুড়ি ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নদী পরিব্রাজক দলের সদস্য মুদাচ্ছির আলম সুবল বলেন, বৃহস্পতিবার গিয়েছিলাম যাদুকাটা নদী তীরে। ঘাগটিয়া আদর্শ গ্রামের পূর্বদিকের যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করে নিচ্ছে। ভয়ে নদী পাড়ের কেউ তাদের কিছু বলছে না।
যাদুকাটা নদী তীরবর্তী ঘাগটিয়া আদর্শ গ্রামের শামছুজ্জামান বলেন, নদী ভাঙনের কারণে অদ্বৈত আশ্রমের ২০ একর জমি ও পুরনো মন্দির নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
একই গ্রামের খবিরুল বলেন, নদী তীর কেটে বালু উত্তোলন করায় ঘাগটিয়া গ্রাম সহ নদীপাড়ের ২৫টি গ্রাম প্রায় বিলীনের পথে।
তাহিরপুর থানার এস আই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছে এমন সংবাদে তিনি সেখানে গেলে তিনি একটি বাল্কহেড নৌকা পান। পরে নৌকাটিকে আটক করে রাখেন। তিনি আরো বলেন, বালু উত্তোলনের কাজে বড় নৌকা ঐ এলাকাতে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ এ জন্য তিনি নৌকাটিকে আটক করেছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবির বলেন, সম্প্রতি যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে এক শ্রেণির অসাধু চক্র বালু উত্তোলন করছে বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জেনেছেন। এ সমস্ত অবৈধ কর্মকা- বন্ধ করতে মোবাইল কোর্টসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।