স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হতো না। তাঁকে যারা হত্যা করেছে তারা আমাদেরই দেশের মানুষ, পরাজিত শক্তি। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন দেশের মানুষদের। তাই বঙ্গভবন, গণভবনে যান নি। নিজের তৈরি করা সাদামাটা আড়াই তলা বাড়িতে থাকতেন তিনি। এটাই তার কাল হয়েছিল।’
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ফিদেল কাস্ত্রোকে আমেরিকা ২শত বার হত্যার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দেশের মানুষের জন্য করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটাই ঘটেছিল। বিশ্বাসঘাতদের কারণের তাকে নিহত হতে হয়েছে। কর্নেল জামিল নিজের জীবন দিয়েও বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা মুক্তিযুদ্ধের সেই ধারাবাহিকতায় পরাজিত শক্তির নৃশংস এক হত্যাকান্ড। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের শেষ শহীদ। ৫০ বছরে তিনি জাতির পিতা হন এবং অল্প বয়সে বিশ্বাসঘাতদের কারণে তাঁকে নিহত হতে হয়। কিন্তু মৃত্যুর সময়ও তিনি বার তার পরিবারের কেউ প্রাণ ভিক্ষা চাননি।
তিনি বলেন, রাজাকারের দোসর তারা যারা বলে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে যারা বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতা করেছে তাদের হাত ধরেই ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে হত্যা করে। এখনও তা থেমে নেই। ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, প্রধানমন্ত্রীর বিমানের নাট, বল্টু ঢিলা করা আজও তারই প্রমাণ।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে যারা বলে তাঁদের প্রতিরোধ করতে হবে। ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ায় এখনও প্রধানমন্ত্রীকে চাপ দেয়া হয়। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে পদে পদে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছে তাকে, এখনও হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধে যাঁরা শহীদ হয়েছেন তারা যেমন ফিরে আসবেন না। তেমনি মুক্তিযোদ্ধারা এখন যাঁরা জীবিত আছেন তারাও ফিরে আসবেন এমন গ্যারান্টি পেয়ে যুদ্ধে যান নি। জীবন বাজি রেখেই তারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন। আমি বিভিন্ন সরকারি সভায় বলি, ‘সরকার আপনাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব কিছু দিচ্ছে। আপনারা শুধু মনটা দেশের জন্য দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মতো জীবন দেয়ার দরকার নেই।
সোমবার সন্ধ্যায় দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার সম্পাদক পংকজ কান্তি দে এর সঞ্চালনায় মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণা করেন, সিনিয়র আইনজীবী ও কলামিষ্ট হোসেন তওফিক চৌধুরী, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের উপদেষ্টা সম্পাদক অ্যাড. স্বপন কুমার দেব, অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, কবি রোকেস লেইস, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অভিজিৎ চৌধুরী।
সভায় বক্তারা বলেন, পাকিস্তানিদের বিমান, কামান-বন্দুক-মেশিনগানের হুমকির মুখে বঙ্গবন্ধু ৭মার্চ ঘোষণা করেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি সেদিন যুদ্ধের ঘোষণা যেমন পরোক্ষভাবে প্রদান করেন, আবার যুদ্ধে কিভাবে জয়ী হতে হবে সে ব্যাপারেও দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন ২৮ তারিখে গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেন, তোমাদের ওপর আমার অনুরোধ রইলো প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে।
আলোচনায় উঠে আসে সেই সময়কার পরিস্থিতি এবং বঙ্গবন্ধুর সুনামগঞ্জে নির্বাচনী সফরের নানা দিক। এসময় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক তরুণ সংবাদকর্মীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তাদের ভাবনা জানতে চান এবং তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
এর আগে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর কার্যালয়ে আসলে ড. মোহাম্মদ সাদিককে স্বাগত জানান খবর পরিবারের সদস্যরা। সভার শুরুতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় তাঁকে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সহকারি পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, ইডেন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সাব্রি সাবেরীন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি পারভেজ আহমদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র সুনামগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ চৌধুরী অসিত, কবি কুমার সৌরভ, সমাজসেবক অরুন দে, লেখক ডা. মুর্শেদ আলম, সুনামগঞ্জের খবরের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. প্রসেনজিৎ দে, অনলাইন সম্পাদক অ্যাড. মাহবুবুল হাসান শাহীন, দৈনিক প্রথমআলোর জেলা প্রতিনিধি অ্যাড. খলিল রহমান, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জের খবরের সহকারি সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বার্তা সম্পাদক বিন্দু তালুকদার, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আকরাম উদ্দিন, কবি মানবেন্দ্র কর, চ্যানেল২৪ এর জেলা প্রতিনিধি এআর জুয়েল, ডা. সৈকত দাস, সহকারি পুলিশ সুপার সালমান ফার্সি, সুনামগঞ্জের খবরের অভিজিৎ রায়, আবিদ খান হৃদয়, সহকারি অনলাইন সম্পাদক সজীব নন্দন দেব, স্টাফ রিপোর্টার আশীক পীর, পুলক রাজ, উজ্জ্বল তালুকদার, শহীদ নূর আহমদ, গ্রাফিক্স ডিজাইনার এনামুল হক জুবের প্রমুখ।


