সোহেল তালুকদার, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামে দোকানকোঠার জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে চাচা ভাতিজা খুন হয়েছেন। নিহত চাচা আব্দুল তাহিদ (৬২) ডুংরিয়া গ্রামের মৃত উসমান উল্লাহের পুত্র ও ভাতিজা রিপন মিয়া (৪২) মৃত রাফিক মিয়ার পুত্র। নিহত দু’জন সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহত তাহিদ মিয়ার ছেলে জাকির মিয়া (৩০) ও নিহত রিপন মিয়ার ছোট ভাই লিকসন মিয়ার স্ত্রী হালিমা বেগম, মেয়ে নিলুফা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে। ।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার বিকালে নিহত আব্দুল তাহিদের ছেলে জাকির মিয়া ও নিহত রিপন মিয়া ও তার ভাই জমির মিয়ার মধ্যে শান্তিগঞ্জ বাজারে সরকারি সড়ক ও জনপথের জমিতে দোকান ঘর নির্মাণের মাটি ভরাট করা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তাৎক্ষণিক বাজারে থাকা স্থানীয় লোকজন বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তি করে দেবেন বলে শান্ত করে দেন।
এই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় নিহত আব্দুল তাহিদ মিয়া ও তার ছেলে জাকির মিয়া দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভাতিজা রিপন মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে তাকে মারপিট করার জন্য খোঁজাখুজি করতে থাকে। রিপন মিয়া স্থানীয় ডুংরিয়া গ্রামের আগার পয়েন্টে থাকায় তার স্ত্রী কলছুমা বেগম (৩০) বাঁধা দেন। রিপন মিয়া তার বসত বাড়ীর পিছনে আসলে নিহত আব্দুল তাহিদ ও তার ছেলে জাকির মিয়া আক্রমণ করে। এসময় আব্দুল তাহিদ মিয়া, জাকির মিয়া ও রিপন মিয়াদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় লোহার শাবলের আঘাতে রিপন মিয়া বুকে ও আব্দুল তাহিদ মিয়া আহত হয়। আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত দুজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
এঘটনায় আব্দুল তাহিদ মিয়ার ভাই মৃত ওসমান গণির ছেলে এমদাদ মিয়া (৫০) ও নিহত রিপন মিয়ার স্ত্রী কলছুমা বেগম (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হায়াতুন নবী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি কাজী মুক্তাদির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উভয়পক্ষই সম্পর্কে আত্মীয় স্বজন এবং পরস্পর চাচা-ভাতিজা ও চাচাতো ভাই। ঘটনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


