দোয়ারাবাজার উপজেলার মরণফাঁদ স্বরূপ রাস্তাঘাটগুলোর উপর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে ওই উপজেলার বাংলাবাজার সড়কের যে চিত্র মুদ্রণ করা হয়েছে সেটি দেখলে যেকোন সুস্থ ব্যক্তি মাত্রই আঁতকে উঠবেন। এই ধরনের সড়ককে আদৌ সড়ক বলা সংগত কিনা সে নিয়েও যুক্তিসংগত বিতর্ক হতে পারে। এলাকাবাসী বলছেন, এইসব সড়কে যানবাহন তো দূরের কথা হাঁটতে গেলেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাস্তবতা এর চাইতেও বেশি দুর্ভোগজনক। দোয়ারাবাজারের যেকোন ব্যক্তি একবাক্যে স্বীকার করবেন যে উপজেলাজুড়ে যেসব সড়ক রয়েছে সেগুলোর প্রতিটিই এখন একধরনের মৃত্যুফাঁদরূপে দাঁড়িয়ে আছে। এইসব সড়ক নিয়ে এন্তার খবরাখবর প্রতিনিয়ত সংবাদপত্রে ছাপা হলেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। সম্ভবত জেলার মধ্যে আর কোন উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের এত দুর্দশাগ্রস্ত চিত্রের দেখা মিলবে না। বলাবাহুল্য, সড়কের এই যে দুর্ভোগ সেটি নতুন নয়। গত চার/পাঁচ বছর আগে থেকেই এমন দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিন অবস্থার আরও অবনতি ঘটছে। সড়কের কারণে দোয়ারাবাজারবাসী নিজেদের বঞ্চিত ভাবছেন এবং এই রকমের ভাবনা খুবই সংগত।
দোয়ারাবাজারবাসী কায়মনোবাক্যে চাচ্ছেন এরকম অবস্থান থেকে পরিত্রাণ পেতে। এক্ষেত্রে ‘মন থেকে কিছু চাইলে সেটি পাওয়া যায়’ এমন সহজিয়া দর্শনটি প্রচ-ভাবে মার খেয়েছে। অল্পশোকে কাতর আর অধিক শোকে পাথর হয়ে গেছেন আজ যোগাযোগ বঞ্চনার শিকার দোয়ারাবাজারবাসী। তবে দীর্ঘদিনের জমাটবাঁধা এই সমস্যা একদিনে দূর হওয়ার মতো নয়। লাঙ্গলদ্বারা কর্ষণযোগ্য জমি বা উৎখননের মাধ্যমে সদ্য আবিস্কৃত কোন প্রাগৈতিহাসিক নগর স্থাপনার মতো সড়কগুলোকে চলাচল উপযোগী করা অতিশয় কঠিন কাজ। এই কঠিন কাজ সমাধার জন্য সেই ধরনের শক্তিশালী উদ্যোগ দরকার। দোয়ারাবাজার উপজেলায় যে সব জনপ্রতিনিধি রয়েছেন নানা পর্যায়ের, তাঁরা প্রত্যেকেই অতিশয় যোগ্য, দক্ষ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। তাঁরা একান্তভাবে চাইলে সরকারের নজর এই সড়ককে নিয়ে আসা সম্ভব। দোয়ারাবাজারের আমজনতা তাঁদের ভোটে নির্বাচিত নেতাদের একটু সদয় উদ্যোগ কামনা করেন মাত্র। আমরাও গণমাধ্যমের বরাতে তাঁদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। জনপ্রতিনিধিত্বের যে সারকথা সেটি হলো জনস্বার্থে কিছু করা। এই দায়িত্ববোধটির জাগৃতি কামনা করছি আমরা গোটা এলাকার মানুষের একটি সাধারণ সমস্যার সমাধানকল্পে। সড়কের কারণে কাউকে গোরস্থানে যেতে হলে অথবা হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে মানুষ বলবে, দরকার নেই আমার এই সড়ক। ফিরিয়ে দাও আমাদের আগেকার প্রাকৃতিক ব্যবস্থাগুলোই। আমরা পায়ে হেঁটে চলাচল করব। নৌকায় চড়ে স্থানান্তরে যাব। না পারলে ‘থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে’ এই উপদেশ ভুলে ঘরেই বসে থাকব। তথাকথিত উন্নয়নের জোয়ারে আমাদের দরকার নেই। তখন এই জনগণকে কোন উন্নয়নের দোহাই পাড়া যাবে?
অতএব দোয়ারাবাজারের মৃত্যুশয্যায় শায়িত সড়কগুলোকে বাঁচাতে জীবনরক্ষাকারী ঔষধ প্রয়োগ তথা দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি অনুরোধ জানাই।
- বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের আমনচারা সরবরাহের দাবি হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের
- জেলার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় বাদাঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শ্রেষ্ঠ সভাপতি অধ্যক্ষ জুনাব আলী

