দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের সিলেটের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার রাত ৯ টা থেকে সাড়ে ১১ টার মধ্যে দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের নৈনগাঁও গ্রামে এই সংঘর্ষ এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গভীর রাতে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে নিহত দুই জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতরা হলেন- নৈনগাঁও গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে আবুল কালাম (৪২) ও মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল আমিন (২৪)।
পুলিশ জানায়, দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের নৈনগাঁও গ্রামের সমছু মিয়া ও তার ভাতিজা ইন্তাজ আলীর ছেলে আবুল কালামের মধ্যে গত ইউপি নির্বাচন থেকে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরে কয়েকবার সংঘর্ষ ও মামলা মোকদ্দমা হয়েছে। ডিসেম্বরের ২০ তারিখে আবুল কালাম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘর জ্বালানী ও ভাংচুরের মামলা করেন। পুলিশ ঐ মামলায় আসামী ধরতে নৈনগাঁওয়ে যায়। পুলিশ ফেরার পরই আবার দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়। বৃহস্পতিবার আবার প্রতিপক্ষের উপর ৭ ধারার মামলা করেন আবুল কালাম। শনিবার আবুল কালাম তার বাড়ির উপর দিয়ে যাওয়া সমছু মিয়ার আত্মীয় আব্দুল আমিনের বাড়ির বিদ্যুতের তার কেটে দেয়। এই নিয়ে আবার দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়।
রাতে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়।
আহতদের দোয়ারাবাজার হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে রাত সাড়ে ৯ টায় ইন্তাজ আলীর ছেলে আবুল কালাম মারা যান। রাত সাড়ে ১০ টায় মারা যান আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল আমিন (২৪)। গ্রেপ্তারের ভয়ে রাতেই আহত ইন্তাজ আলীর ছেলে আব্দুল আজাদ, তকদ্দুছ আলীর ছেলে রফিক মিয়া, আসিফ আলীর ছেলে আমীর আলী ও সমছু মিয়ার ছেলে কালা মিয়া দোয়ারাবাজার হাসপাতাল ছেড়ে সিলেটের বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে ভর্তি হন।
পুলিশ শনিবার রাতে ও রোববার সকালে ঘটনায় জড়িত সমছু মিয়া, আব্দুস সালাম, সামাদ মিয়া, আলী হুসেন ও আব্দুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে।
দোয়ারাবাজার থানার সাবইন্সপেক্টর সাঈদুর রহমান জানান, ‘রোববার নিহত দুই জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে’।
- নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র বাড়িতে ডাকাতি- তত্ত্বাবধায়ক খুন
- নববর্ষের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই


