দোয়ারাবাজার রাস্তা সংস্কারের খবরে আমরা ভীষণ খুশি

খবরটি পত্রিকায় এসেছে ছোট করে, ভিতরের পাতায়। সম্ভবত পত্রিকার পেস্টিং কাজ শেষ হওয়ার পর নিউজডেস্ক সংবাদটি পেয়েছে যেকারণে এর যথাযথ ট্রিটম্যান্ট দেয়া সম্ভব হয়নি। তারপরেও মধু যেখানেই থাকুক মৌমাছি তা আহরণ করে আনবেই। যারা সুনামগঞ্জ থেকে দোয়ারাবাজার যাতায়াত করেন সড়ক পথে, ভাঙাচুড়া পুরো রাস্তার তীব্র ঝুাঁকুনিতে যাত্রীদের যখন ত্রাহী অবস্থা, তাদের ‘উজুরিবুজুরি’ বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়; সেইসব লোকজন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের ভেতরের পাতা থেকেই সংবাদটি আগ্রহ নিয়ে পড়ে নিয়েছেন। পত্রিকা অফিসে ফোন করে নিজেদের আনন্দের কথাও জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন। সংবাদটির উপজীব্য ছিলো একটি অতি সাধারণ উন্নয়ন কাজ। এরকম উন্নয়ন কাজ এখন বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে প্রতিদিনই হচ্ছে। হচ্ছিল না শুধু সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কে। গত তিন বা তার চাইতে বেশি বছর ধরে যাত্রীরা সয়ে চলেছেন অসহ্য যাতায়াত যন্ত্রণা। অবশেষে তাদের সেই যন্ত্রণার অবসান হতে চলেছে। রবিবার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বয়ং শুনিয়েছেন এই সুসংবাদ। তিনি বলেছেন, ভাঙা ওই সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন সামনের ডিসেম্বরেই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর মুখে পুষ্পবৃষ্টি হোক। তিনি দীর্ঘ জীবন লাভ করুন। কারণ এই একটি সংবাদে দোয়ারাবাজারের মানুষের মুখে এবং যারা দোয়ারাবাজার যাতায়াত করেন তাদের মধ্যে তীব্র আনন্দ সঞ্চার করেছে। এই রাস্তার কারণে বহুদিন সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বহু যাত্রী অনেক অকথা-কুকথা বলেছেন। যারা এতদিন এইসব ক্ষোভ ঝেড়েছেন তারা এখন একগাল হাসি দিয়ে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইছেন। রাস্তাটি হয়ে গেলে তারা সকলেই রাস্তা সংস্কারের জন্য ক্রেডিট যাদের প্রাপ্য তাদের সকলকেই আরেক রাশ শুভেচ্ছায় সিক্ত করবেন নিশ্চয়ই।
ভাবতে অবাক লাগে, উন্নয়নের মহাসড়কে যখন বাংলাদেশ চলছিল তখন একটি উপজেলা সদরের সাথে জেলা সদরের রাস্তার এমন করুণ দশা থাকতে পারে। শুধু রাস্তার কারণে বহু সরকারি চাকুরিজীবী দোয়ারায় পদায়ন নিতে অনীহা প্রকাশ করেন, শুধু রাস্তার কারণে দোয়ারার মানুষ সুনামগঞ্জ না এসে ছাতক হয়ে সিলেট চলে যান। অথচ এই সুনামগঞ্জ-আমবাড়ি-ছাতক রাস্তাটি জেলা সদরের সাথে ছাতকের দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছিলো প্রায় এক তৃতিয়াংশ। এই সড়কটি ভালভাবে চালু করা গেলে সিলেট-সুনামগঞ্জ বর্তমান সড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হতো। এতে মূল সড়কের উপর যানবাহনের চাপ কমতো, মানুষ সহজে ও স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারতেন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তথা সড়কের মালিকানা নিয়ে জটিলতার কারণে বিষয়টি এতোদিন ঝুলে ছিল। অবশেষে জটিলতার নিরসন ঘটায় সকলে খুশি, আমরাও ভীষণ আনন্দিত। এখন চাইছি, ভালোয় ভালোয় কাজটি শুরু হোক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ হোক। কাজের মান ভাল হোক। কন্ট্রাকটর নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব দেখিয়ে বছরের পর বছর কাজটি ঝুলিয়ে রাখুন এমন অপ্রিয় বাস্তবতার সন্মুখিন যাতে আমরা না হই সেদিকে প্রথম থেকেই খেয়াল রাখা উচিৎ।
আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি ছাতক-দোয়ারাবাজারের সংসদ সদস্য, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, অপরাপর জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীবৃন্দকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য। কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রী, যোগাযোগ মন্ত্রী ও অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর প্রতি। সকলে চেয়েছেন বলেই  অবশেষে কাজটি হচ্ছে। কাজ শুরুর পূর্বপ্রস্তুতিগুলো কোন ধরনের বিলম্ব ছাড়া শেষ করুন এবং নির্ধারিত সময়ে মানসম্মতভাবে কাজটি শেষ করুন, এই আমাদের অনুরোধ আপনাদের নিকট।