আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর পানি কমলেও নদী তীরে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। ভাঙ্গনে উপজেলা পরিষদ সহ নদী তীরে বসবাসরত মানুষ জনের মাঝে বাড়ছে আতঙ্ক। ঘুম হীন রাত কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষ। ইতিপূর্বে ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, কবরস্থান সহ শতাধিক ঘরবাড়ী। গত এক মাসে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ২০/২৫টি বাড়িঘর। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি বেশী বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে মাজেরগাঁও গ্রামের মানিক মিয়ার বসতঘর সহ মাদ্রাসা, মসজিদ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এবারের বন্যায় সুরমার ভাঙ্গনে হাজী মিয়াধন আলী দাখিল মাদরাসা, মাজেরগাঁও গ্রামের মসজিদ, দোহালিয়া বাজার, হরিপুরের হরি মন্দির সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
জানা যায়, গত কয়েক বছরে প্রায় তিন শতাধিক ভিটে-বাড়ি, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির, রাস্তা, মাঠ নদীতে বিলীন হয়েছে। দোহালীয়া ইউনিয়নের দোহালীয়া বাজার ব্যবসায়ীদের দালান ঘর, কাঞ্চনপুর গ্রাম, হরিপুর গ্রামের মন্দির, মান্œারগাঁও ইউনিয়নের ইদনপুর গ্রাম, আজমপুর, কাঠাখালি গ্রাম, জালালপুর, আমবাড়ি বাজার, জুগিরগাঁও গ্রামের জামে মসজিদ, ধনপুর গ্রামের অর্ধেকেরও বেশী গ্রামের ঘড় বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।
সুরমা ইউনিয়নের শরীপপুর গ্রামের কবরস্থান, ভুজনা গ্রাম, কদমতলি, নুরপুর গ্রাম, নুরপুর গ্রামের লাল মসজিদ, সুনাপুর (বেটির গাঁও) গ্রামের অসংখ্য ঘর বাড়ি এরকম নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে।
দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের নৈনগাঁও গ্রামের পূর্ব পাশের ছাতক-দোয়ারার যোগাযোগের রাস্তাটি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে বারবার। এছাড়াও ভাঙনের হুমকীর মধ্যে রয়েছে মংলারগাঁও গ্রাম, মাস্টারপাড়া, মাজেরগাঁও গ্রাম, পূর্ব মাছিমপুর, পশ্চিম মাছিমপুর, দোয়ারাবাজারের পশ্চিম বাজারের রাস্তা ও উপজেলা পরিষদ।
ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে শিঘ্রই বিলীন হয়ে যাবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন, উপজেলা খাদ্য গুদাম সহ গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা।
ভাঙ্গন কবলিত এলাকাতে গেলে শোনা যায় সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর আহাজারী। এদের কেউ এখন আশ্রয় নিয়েছেন সরকারী রাস্তার পাশে।
সুরমার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়া ভিটে মাটি হারিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে মাজেরগাঁও গ্রামের দিন মজুর মানিক মিয়া বলেন, ‘মসজিদের পাশে আমার বাড়িটি ছিল, তার কোন অস্তিত্ব নেই। সারাদিনে যা পাই তা দিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছি।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি । অচিরেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
- এই শহরে জ্যোৎস্না কই
- উচ্চ আদালতে রিট করেও কাজ হয়নি- সরকারিকরণ হচ্ছে বাদাঘাট কলেজ ও বাদশাগঞ্জ হাইস্কুল


