দ্বিতীয় দিনে দূর্ব্বীণ শাহকে স্মরণ

স্টাফ রিপোর্টার
বিশিষ্ট চার লোককবির স্মরণে আয়োজিত ‘হাওরপাড়ের গল্প’ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে শনিবার লোককবি দূর্ব্বীণ শাহকে স্মরণ করা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে তার সৃষ্টি ও জীবন-দর্শন নিয়ে। একই সঙ্গে শিল্পীরা তার গানও পরিবেশন করেন।
সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মরতুজা আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কায়কোবাদ হোসেন, গণযোগযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আফসার উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন আহমদ, ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ্ খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শায়েখ আহমদ, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট রইছ উদ্দিন আহমদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ প্রমুখ।
এর আগে বিকালে একই মিলনায়তনে দূর্ব্বীণ শাহকে নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম। সেমিনারে মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাশ। মুখ্য আলোচক ছিলেন অধ্যাপক আফসার উদ্দিন আহমদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কবি ও গবেষক শোয়াইব জিবরান, নাট্য সংগঠক মু. আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার মজুমদার, শিক্ষাবিদ শওকতুল হাসান চৌধুরী, কলেজ শিক্ষক রামানুজ আচার্য প্রমুখ। সেমিনার সঞ্চালনা করেন জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী।
বক্তারা বলেন, বাংলার বাউল গানের    এক অনন্য সাধক দুর্ব্বীণ শাহ। অতীতে গ্রামীণ মানুষের মধ্যে তার রচিত গান ব্যাপক আবেদন সৃষ্টি করলেও সেগুলো নাগরিক সমাজে ততটা প্রচলিত ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার গানের প্রতি সর্বত্র আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। দুর্ব্বীণ শাহ মাটি ও মানুষের কথা বলে গেছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের স্বপ্ন, মানবিকতা ও প্রেমের সম্পর্ক। তাদের সৃষ্টি ধরে রাখতে হবে। তাদের জীবন দর্শন ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের মাঝে।
রাতে সাংস্কতিক অনুষ্ঠান শুরুর আগে বক্তব্য দেন জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদীন। পরে দূর্ব্বীণ শাহের গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। অতিথি শিল্পী হিসাবে ছিলেন রিংকু। উৎসবের তৃতীয় দিনে আজ রোববার আলোচনা হবে মরমি সাধক হাসন রাজাকে নিয়ে। শেষ দিন সোমবার আলোচনা হবে বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্তকে নিয়ে।
প্রতি বছর সুনামগঞ্জের বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত, মরমি সাধক হাসন রাজা, লোককবি দূর্ব্বীণ শাহ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউলস¤্রাট শাহ আবদুল করিমকে স্মরণ করতেই এই আয়োজন করা হয়। এবার এই চারজনের সৃষ্টি ও জীবন-দর্শনের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে হাওরপাড়ের ফসলহারা মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়ে।