দ্রুত বিচারে ধীরগতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে বিচার প্রক্রিয়া

চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পন্ন করার লক্ষ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। মূলত দীর্ঘসূত্রতার বাইরে এসে অপরাধীদের শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অন্যতম লক্ষ্য। এর ফলে বিচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় না। অন্যদিকে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতাও কমতে থাকে। ইতোমধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করেছে। এদেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে দ্রুত বিচারের সক্ষমতা এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে শিশু রাজন ও রাকিবকে পৈশাচিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে। রাজন হত্যার চার মাস ও রাকিব হত্যার তিন মাস পাঁচ দিনের মাথায় ছয় আসামির দ- ও দুই রায়কে সব মহল থেকে দৃষ্টান্তমূলক আখ্যা দেওয়া হয়। এভাবে সব মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলে দেশে অপরাধের মাত্রা অনেক কমে আসবে, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে বিচারব্যবস্থার প্রতিও মানুষের আস্থা বাড়বে।
কিন্তু নানা ধরনের জটিলতায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেও বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। ২০০২ সালের দ্রুত বিচার ট্রাই্যুনাল আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে মামলা আসার দিন থেকে সর্বোচ্চ ১৩৫ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মামলার রায় হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর। ক্ষেত্রবিশেষে রায় হতে সময় লাগছে যুগের পর যুগ। এতে হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আবার বিনা বিচারে কারাবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন বহু আসামি। আমরা মনে করি, বিচারপ্রার্থী ও আসামিদের ভোগান্তি লাঘবে বিচার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা দরকার।
বিচারব্যবস্থার গতিশীলতাকে আইনের শাসনের স্তম্ভ বলা যেতে পারে। আবার এ কথাও অগ্রাহ্য করা যায় না যে, যেন কোনো নিরপরাধের শাস্তি না হয়। কিন্তু তাই বলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করাটা সমীচীন হবে বলে মনে হয় না। কেননা বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি তথা কাঙ্ক্ষিত সময়ে বিচার সম্পন্ন না হওয়াকে বিচারহীনতার সঙ্গেও তুলনা করা হয়। অপরাধীরা কৃতকর্মের জন্য শাস্তি পাবে, এটাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে নির্দোষদের দ্রুত খালাস দেওয়াটাও যথাযথ। এজন্য বিচার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করার বিকল্প নেই। বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির জন্য স্বয়ং প্রধান বিচারপতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মন্তব্য করেছেন যে, দেশে বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর অপরাধগুলো কমছে না। আমরা মনে করি, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করার জন্য দীর্ঘসূত্রতার কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পন্ন করা হবে, এটা আমাদের প্রত্যাশা।