দ. সুনামগঞ্জে এ্যালোমিনিয়াম ফসপিড দিয়ে মৎস্য নিধন

স্টাফ রিপোর্টার
বিশাক্ত এ্যালোমিনিয়াম ফসপিড (অষঁসরহরঁস ঢ়যড়ংঢ়যরফব) দ্বারা মাছ নিধন করছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ববীরগাঁও ইউনিয়নের পাখিমারা হাওরের জলমহালের মালিকেরা। সোমবার ভোরে এ্যালোমিনিয়াম ফসপিডের প্রভাবে ভেসে উঠে হাওরের ছোট ছোট ডোবার কয়েক প্রজাতির ছোট বড় মাছ। ভেসে উঠা মৃত মাছকে ধরতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় মাছ খেকো পাখিদের।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও কৃষকদের দেয়া একাধিক সূত্রে জানা যায়, পাখিমারা হাওরে চাতলী ও কুড়ি নামে দুটি বিল রয়েছে। প্রতি বছর মৎস্য সমিতিকে নাম মাত্র মুনাফা দিয়ে বিল দুটি থেকে মাছ আহরন করে একটি প্রভাবশালী মহল। পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন এই তিন মাস বিলগুলোতে মাছ ধরে তারা। হাওরের ফসলী জমিতে থাকা ছোট ছোট ডোবা থেকে মাছ বের করে আনতে বিশাক্ত এ্যালোমিনিয়াম ফসপিডসহ হরেক ধরনের বিষাক্ত কীটনাশক ও ঔষধ পানিতে প্রয়োগ করে। এ্যালোমিনিয়াম ফসপিড প্রয়োগের ফলে ধ্বংস হয়ে যায় মা মাছের ডিম, পোনা মাছ ও মাছের প্রজনন ক্ষমতা। বিষাক্ত এই ট্যাবলেট প্রয়োগের মিনিট কয়েকের মধ্যে মারা যাচ্ছে সকল প্রজাতির ছোট-বড় মাছ ও জলজ প্রাণী। বিষক্রিয়ায় মাটি ভেদ করে মরে ভেসে উঠেছে বাইম, কেঁচোসহ অসংখ্য জলজ প্রজাতির কীটপতঙ্গসহ নানা জাতের মাছ।
জানা যায়, বিষক্রিয়ায় ফসলি      
জমিতে থাকা কেঁচো ও উপকারী পোঁকামাকড় নিধন হওয়ায় কমে যাচ্ছে জমির উর্বরতা শক্তি। মৎস্য সম্প্রসারণ আইন ১৯৫০ এর ৫ ধারা অনুযায়ী নদী/জলমহলে বিষ প্রয়োগ করে বা বিদ্যুতায়িত করে মাছ ধরা বা ধ্বংস করা দন্ডনীয় অপরাধ। আইনটির উল্লেখিত ধারার তোয়াক্কা না করে মাছ নিধন ও শিকার করছেন পাখিমারা বিলের ইজারাদার। ফলে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় মাছ ও মাছের পোনা। ক্ষতির মূখে পড়ছেন শতশত মৎস্যজীবী ও কৃষক পরিবার। ক্ষতিকারক এই কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পানি ব্যবহারে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ।
স্থানীয় লাবিল হুসেন নামের এক কৃষক বলেন, ‘বিষ ফালাইলে জমির পোঁকামাকড় মরি যায়। ধানের ফলন কম ওয়। ইতা বিষ শইল লাগলে শইল খাওজায়।’
তবে উল্লেখিত বিষয়টি স্পর্শকাতর ও ক্ষতিকারক দিক হওয়া সত্যেও ইহা বন্ধে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসনের।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, জলমহালের মালিকেরা বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছেন এমন তথ্য আমাদের জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।