দ. সুনামগঞ্জে বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশংকা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, পাগলাবাজার
চৈত্র মাসের শেষ সময়। সবে মাত্র পাকতে শুরু করেছে বোর ধান। বা¤পার ফলনে কৃষককূল হাসার  কথা থাকলেও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে তৃপ্ত মুখে কেমন যেনো  একটি দুশ্চিন্তার ছায়া পড়ে আছে।  তারা আশংকা করছেন এরকম অব্যাহত বৃষ্টি হলে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে তলিয়ে যেতে  পারে তাদের স্বপ্নের বুনট। তাই তারা সব সময় আশংকায় দিন যাপন করছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দেখার হাওর, সিচনীর হাওর, তেছার কোনা, নাগডরা, দক্ষিণের হাওরসহ অধিকাংশ হাওরে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা বা ডোবা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ধানের অর্ধেক অংশ ডুবে গেছে বৃষ্টির পানিতে। এতে কৃষকদের আশংকা বেড়েই চলেছে।  কৃষকরা বলছেন, ‘এভাবে বৃষ্টি হলে বৈশাখ মাসের আগেই ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’
জয়কলস ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের প্রবীণ কৃষক চমক আলী বলেন, ‘যেসব জমিতে ডোবরা বা জলাবদ্ধতা লেগেছে সেসব জমি খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে বেশিরভাগ কৃষকই উপকৃত হবেন।’ আসামপুরের কৃষক মোহাম্মদ বলেন, ‘ডোবরা লেগে আছে  দেখার হাওরের অধিকাংশ জমিতে। এতে ধানের ব্যপক ক্ষয় ক্ষতি হবে। পানি নিষ্কাশন অতি জরুরি।’
দরগাপাশা ইউনিয়নের সিচনী গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রিপন মিয়া বলেন, ‘আমাদের কম জমি। এতেও  পানি জমে আছে। বৃষ্টি না কমলে সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। এবার ফলন ভাল হলেও বৃষ্টির পানিতে ইতোমধ্যে ধান গাছের অর্ধেক ডুবে গেছে পানির নিছে। এতে পঁচে যেতে পারে ধানের গোড়া।’ কৃষকদের দাবী এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার। তা না হলে কৃষকরা খুব ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবে।
এব্যপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল হালিম এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছেন জানিয়ে বলেন, ‘অব্যাহত বৃষ্টির বিষয়টি আমাদের মাথায়ও আছে। পানি নিষ্কাশনের দ্রুত পদক্ষেপ নেবো। কৃষক ভাইয়েরা যেনো কোনো ক্ষতির মুখে না পড়েন সেই চেষ্টা করবো।’