দ. সুনামগঞ্জ অফিস
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মধ্যে। এমনকি কোনো প্রার্থীর দলীয় লবিংয়ের কথাও শোনা যায়নি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠান স¤পন্ন হবে বলে নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা এই নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিবেন। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের কাছে ছুটছেন দিন-রাত।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা, পশ্চিম পাগলা, জয়কলস, পাথারিয়া ও শিমুলবাঁক ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত ৭নং ওয়ার্ড। মোট ৬৮টি ভোটের জন্য এ ওয়ার্ডে প্রচারণায় রয়েছেন ৭ জন সদস্য পদপ্রার্থী। তবে শেষ পর্যন্ত কয়জন প্রার্থী থাকবেন মাঠে এ নিয়ে রয়েছে আলোচনা। এই ওয়ার্ডে যে সাত জন প্রার্থী প্রচারণায় রয়েছেন তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতা ও শিমুলবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক
চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ মিয়া, উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি জহিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুর রহমান আসাদ, রেজাউল আলম নিক্কু, মাও. আব্দুল কাইয়ূম, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে শাহাব উদ্দিনের নাম শোনা যাচ্ছে।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নিয়ে গ্রাম-পাড়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকানেও চলছে বিচার-বিশ্লেষণ। কোন দল থেকে কে সমর্থন পাবেন, কে হবেন আগামী দিনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, এসব নিয়ে চলছে আলোচনার ঝড়। সচেতন মহল মনে করেন, দলীয় সমর্থনের ওপরই নির্ভর করবে প্রার্থীর জয়-পরাজয়। ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, এ নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও আদর্শ ব্যক্তিত্বকেই জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে দেখতে চান তারা।
জেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছিল। অন্যদিকে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য পদে স্থান পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের কেউ এখনও মুখ খুলছেন না। ফলে নির্বাচন নিয়ে এসব দলের কারও কোনো প্রচারণা লক্ষ্য করা যায় নি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন,‘জেলা পরিষদের নির্বাচনের জন্য দলীয় ভাবে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। দলীয় সভানেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন আ.লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী সেইভাবেই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে। দেশরতœ শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিতে সর্বত্র গণতন্ত্রের চর্চার ধারা অব্যহত রেখেছেন। আমার বিশ্বাস, জেলা পরিষদ নির্বাচন উন্নয়নের কাজকে আরো গতিশীল করবে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনছার উদ্দিন বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে আমরা কিছুই ভাবছি না। কেননা এটি একটি একপেশে ও এক দলীয় নির্বাচন হবে, যা বাকশালের নামান্তর।’


