ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের পাথারিয়াকান্দা গ্রামে এক ইউপি সদস্য ও তার লোকজনের হামলায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্মশান নির্মাণকে কেন্দ্র করে রোববার গভীর রাতে ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল হকের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ধর্মপাশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার, ধর্মপাশা থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আজিজুল হকের ভাই আরসাদুল হককে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথারিয়া গ্রামের পশ্চিমপাশে হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘ বছরের অস্থায়ী পুরনো একটি শ্মশান রয়েছে। এ শ্মশানকে স্থায়ী রূপ দিতে গ্রামবাসী কয়েকদিন ধরে সংস্কার কাজ শুরু করে। কিন্তু শ্মশানটি ইউপি সদস্য আজিজুল হকের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় শ্মশান নির্মাণে নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন তিনি (আজিজুল)। বিষয়টি নিয়ে শ্মশান নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত লোকজনের সাথে আজিজুল হকের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ফলে শ্মশাণ নির্মাণের কাজের কোনো ক্ষয়ক্ষতি যাতে না হয় সে কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে একটি অস্থায়ী ঘর তৈরি করে রাতে অবস্থান করতে থাকেন। রোববার রাত একটার দিকে আজিজুল হক তার লোকজন নিয়ে সেখানে অবস্থানরত লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে ওই গ্রামের রবি বর্মন (৫৫), অমল বর্মন (২৫), সুবল বর্মন (১৭) ও দীপ্ত বর্মন (১৯) গুরুতর আহত হয়।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আজিজুল হক পলাতক এবং তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি।
ধর্মপাশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শ্মশানটির অবস্থান ওই ইউপি সদস্যের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় শ্মশান নির্মাণ নিয়ে ইউপি সদস্য আজিজুল হক কয়েকদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। এরই জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে আরসাদুল নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।’
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এটি সম্প্রদায়গত কোন বিরোধ নয়। জমি নিয়ে দুইপক্ষের দ্বন্দ্ব। আহতদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দেখতে গিয়ে বলে এসেছি, হামলাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।


