এনামুল হক, ধর্মপাশা
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় আব্দুল মজিদ নামের এক ডিলারের বিরুদ্ধে নির্ধারিত মূল্য রেখেও জনপ্রতি ৫ থেকে ৮ কেজি করে চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আব্দুল মজিদ উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি) একাংশের ডিলার ও ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। চাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি ও উপকারভোগীদের বক্তব্য গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও মুঠোফোনে অবগত করেছেন। কিন্তু ডিলার দাবি করেছেন ভিডিওতে যারা তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন তারা উপকারভোগী নয়।
স্থানীয় ও উপকারভোগী সূত্রে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে ওই ডিলারের আওতাধীন ৩৭০ জন উপকারভোগী রয়েছে। একজন উপকারভোগী প্রতি মাসে ৩০০ টাকার বিনিময়ে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারেন। কিন্তু ওই ডিলার আব্দুল মজিদ ৩০০ টাকার বিনিময়ে উপকারভোগীদের কৌশলে ২২/২৩ কেজি চাল দিয়ে থাকেন। তিনি দুইজন উপকারভোগীকে ৫০ কেজি মাপের একটি বস্তায় চাল বিরতণ করেন। কিন্তু ওই বস্তায় অনেক সময় ৫০ কেজি চাল থাকেনা। ফলে দুইজন উপকারভোগী সমান ভাগে ভাগ করে নিলে জনপ্রতি ২২/২৩ কেজি করে চাল পান তারা।
বাঙ্গালভিটা গ্রামের রোজালী দাজেল, অঞ্জলিসহ আরও কয়েকজন উপকারভোগী এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, ‘ডিলার আব্দুল মজিদ ৩০০ টাকার বিনিময়ে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এক বস্তা (৫০ কেজি) চাল দুজন উপকারভোগীকে দেওয়া হয়। কিন্তু এক বস্তায় অনেক সময় ৫০ কেজি চাল থাকেনা। ফলে আমরা ২২/২৩ কেজি করে চাল পাই।’ উপকারভোগীরা আরও বলেন, ‘ডিলার তাদের জানায় সরকার থেকেই নাকি চাল কম দেওয়া। তাই ওজনে কিছুটা কম হয়।’
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ডিলার আব্দুল মজিদ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির শুরু থেকেই চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা ভয়ে এতোদিন মুখ না খোলার কারণে বিষয়টি সামেন আসেনি। এখন ভুক্তভোগীরা মুখ খুলেছে বলে বিষয়টি সামনে এসেছে। আমি এ অনিয়মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযুক্ত ডিলার আব্দুল মজিদ বলেন, ‘যারা বস্তা নিয়ে আসেনা তাদের দুজনকে ৫০ কেজি চালের একটি বস্তা দেওয়া হয়। সাথে একটি প্যাকেটে আরও ১০ কেজি চাল দেওয়া হয়। কিন্তু ১০ কেজি চাল বাদ দিয়ে কেন যে এমন অপপ্রচার দিচ্ছে তা বুঝতে পারছিনা। একটি কুচক্রীমহল মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিডিও করে তা ফেসবুকে দিয়ে অপপ্রচার করছে। যাদের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে তারা উপকারভোগী কেউ নয় বলে মনে করি।’
মধ্যনগর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিনাষ দাশ সোমবার দুপুর ১২টায় বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশমতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তালেব সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার জন্য মধ্যনগর খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- হাওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশংকা, অতিদ্রুত ফসল কাটার অনুরোধ
- দেশে রেকর্ড সংখ্যক ১৮২ জন করোনা রোগী শনাক্ত, মৃত ৫


