এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ধর্মপাশায় মাইন উদ্দিন নামের এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা না মেনে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একটি বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভেঙে তার মালামাল বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা সদরে অবস্থিত ওই বিদ্যালয়ের নাম ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পুরনো ভবনের আনুমানিক মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা।
জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে পৃথক পৃথক দুটি আধপাকা টিনশ্যাড ভবন ছিল।এলজিইডির অধীনে ওই বিদ্যালয়ে একটি নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে স্থানীয় আনোয়ারা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ পায়। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী ঠিকাদার মাইন উদ্দিন ওই বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের আধপাকা টিনশ্যাড ভবনটি দরপত্র ছাড়াই ভেঙে এর যাবতীয় মালামাল বিক্রি করে দেন এবং নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে গত বছরের জুন মাসে নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান কবির জানান, ওই সময় ঠিকাদার নিলাম ডাকের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন বলে তাঁকে জানানো হলেও এখন তিনি জানতে পেরেছেন তখন কোনো নিলাম ডাক হয়নি।
ঠিকাদার মাইন উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ে জায়গা না থাকলে ভবন ভেঙেই কাজ করা হয়। তিনি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতিক্রমেই বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়।
তবে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালেদুর রহমান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াহেদ আলী জানান, ওই বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙার জন্য ঠিকাদারকে কোনো অনমুতি দেওয়া হয় নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার খাতুন জানান, তিনি গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি এখানে যোগদান করেছেন তাই বিষয়টি সর্ম্পকে তিনি অবগত নন।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী নূরুল আলম চৌধুরী এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন এবং ওই বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।
নিলাম দরপত্র আহ্বান ছাড়া সরকারি কোনো ভবন ভেঙে নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই এমনটি জানিয়ে ইউএনও মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
- জগন্নাথপুরে নৌকার পক্ষে মিছবাহ উদ্দিন ও কামরানের প্রচারণা
- অবাধ, সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের দাবি জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির


