ধর্মপাশায় প্রতিদিনই ডুবছে হাওর

এনামুল হক এ্যানি, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বোরো জমির ফসল ডুবির ঘটনা বেড়েই চলেছে। ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে সোমবার বিকেল পর্যন্ত এ উপজেলায় মোট ১ হাজার ৯২৭ হেক্টর বোরো জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ঝুঁকির মুখে উপজেলার সবক’টি ফসল রক্ষা বাঁধ। পানির চাপে বাঁধ ভেঙে এ ফসর ডুবির ঘটনা ঘটছে। কৃষকসহ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ এখন হাওরমুখী। যে যার মত করে ফসল রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে খুব শিগগিরই এ উপজেলার সবক’টি হাওরের জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার সকাল ছয়টার দিকে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সাতারিয়া-পাথারিয়া ও সকাল আটটার দিকে গাগলাখালী বাঁধটিতে ভাঙন দেখা দেয়। পরে বাঁধ দুটি ভেঙে তিনটি হাওরের ১ হাজার ৮০ হেক্টর বোরো জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
জানা যায়, উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সাতারিয়া-পাথারিয়া হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ভাঙাবন্ধকরণ ও  মেরামত কাজের জন্য ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প চেয়ারম্যান ছিলেন জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহসীন আহমেদ। একই ইউনিয়নে গাগলাখালী ফসলরক্ষা বাঁধের মেরামত কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ কাজের প্রকল্প চেয়ারম্যান ছিলেন জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদের ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. লোকমান মিয়া।
জয়শ্রী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের কৃষক হেকমত আলী জানান, ফসলরক্ষা বাঁধে
তেমন কাজ হয়নি। বাঁধের কাজে গাফিলতি হওয়ায় পানির চাপে বাঁধগুলো ভেঙে গেছে।
সদর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের ওবায়দুর রহমান মজুমদার জানান, ধারাম হাওরে তাঁদের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বাঁধের কাজ ঠিকমত হয়নি বলেই তাঁরা তাঁদের জমির ফসল কাটতে পারেনি।
তবে জয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মহসীন আহমেদ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লোকমান মিয়া দাবি করেছেন, তাঁরা ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ ঠিকমত করেছিলেন। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানির চাপে বাঁধ ভেঙে ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ জানান, আগাম বন্যা দেখা দেওয়ায় এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় ১ হাজার ৯২৭ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় ৫০ ভাগ বোরো জমির ধান কাটা হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি ও বৃষ্টির পানির চাপে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার সবক’টি বাঁধই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও পাউবোসহ সকলেই হাওরের ফসল রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।