এনামুল হক, ধর্মপাশা
উপজেলা সদর থেকে লেলিন সরকারের বাড়ি প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। প্রতিবার উপজেলা সদরে মোটর সাইকেলে করে আসা যাওয়াসহ খাওয়া খরচ বাবদ প্রায় হাজার টাকা চলে যায়। বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা লেলিন সরকার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ধর্মপাশার হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত ও সংস্কার কাজের ১১০ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি। ওই প্রকল্পের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা। তিনি গত ১৯ জানুয়ারি তাঁর প্রকল্পে কাজ শুরু করে ৮০০ মিটার কাজের মধ্যে ৩০০ ফুট কাজ সম্পন্ন করেছেন। মাটি খনন যন্ত্র সংগ্রহসহ এখন পর্যন্ত তাঁর প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এসব টাকা তিনি ধারদেনা করে সংগ্রহ করেছেন। গত এক সপ্তাহে তিনি অন্তত পাঁচবার উপজেলা সদরে এসেছেন বরাদ্দের প্রথম কিস্তির (মোট বরাদ্দের ২৫%) টাকা নেওয়ার জন্য। কিন্তু লেলিন সরকার প্রতিবারই টাকা না পেয়েই বাড়ি ফিরছেন। শুধু লেলিন সরকারই নয় উপজেলার ১৫৯টি পিআইসির মধ্যে ৯৩টি পিআইসির বিপরীতে প্রথম কিস্তির টাকা ছাড় দেওয়া হয়নি। টাকা না পাওয়ার ফলে কাজের সাথে সম্পৃক্ত কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ধর্মপাশা উপজেলার আটটি হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ করার জন্য ১৫৯টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে পাউবো। এবার ধানকুনিয়া হাওরে ৭টি, সোনামড়ল হাওরে ৩১টি, কাইলানি হাওরে ১৭টি, জয়ধুনা হাওরে ১০টি, গোরাডোবা হাওরে ১১টি, গুরমার হাওরে ২৯টি, গুরমার বর্ধিতাংশ হাওরে ৩টি ও চন্দ্রসোনারথাল হাওরে ৫১টি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পাউবো প্রথমবার ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ছাড় দেয়। যা থেকে ইতোমধ্যে ৬৬ পিআইসির মধ্যে প্রথম কিস্তির চেক দেওয়া হয়েছে। পাউবো দ্বিতীয়বার ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ছাড় দিয়েছে। কিন্তু সে টাকা এখনও ব্যাংক হিসেবে না পৌঁছায় বাকি ৯৩টি পিআইসিকে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে বরাদ্দের টাকা না পেয়ে কৃষকেরা দিশেহারা এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এদিকে গত ১৬ জানুয়ারি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান অন্যত্র বদলী হলে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তালেব। কিন্তু তিনি রোববার পর্যন্ত আর্থিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হওয়ায় পিআইসিদের চেক ছাড়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব এবং সুনামগঞ্জ পাউবো’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামের মুঠোফোন গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে। তবে তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি আবু তালেব বলেন, ‘ব্যাংক হিসেবে পরবর্তী টাকা জমা না হওয়ার কারণে পিআইসিদের চেক দেওয়া যাচ্ছে না। টাকা পাওয়া গেলে দ্রæত চেক দেওয়া হবে।’


