ধর্মপাশায় হাওর থেকে ধান পরিবহনে বাধার শঙ্কা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের চকিয়াচাপুর গ্রামের নওয়াব আলী নামের এক ব্যক্তি হাওর থেকে ধান আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সড়কের উপরিভাগে পানির পাম্প বসানোর পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নওয়াব আলীর আপন বড় ভাই মো. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ চকিয়াচাপুর গ্রামবাসীর পক্ষে মির্জা নজরুল ইসলাম, মো. আলী আকবর খান, একতার আলী তালুকদার, ময়না মিয়া আকন্দসহ অন্তত ৫২ জন স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চকিয়াচাপুর গ্রামের উত্তর পাশে টগার হাওর অবস্থিত। এ হাওরে পাইকুরাটি, সেলবরষ, চামরদানি, মধ্যনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সহ¯্রাধিক কৃষক বোরো ধান উৎপাদন করে। এর মধ্যে পাইকুরাটি ইউনিয়নের চকিয়াচাপুর, দাসপাড়া, ধোবালা, নওধার, পাইকুরাটি, বৌলাম, জিংলিগড়া, বড়খলাসহ অন্যান্য গ্রামের কৃষকেরা খিলাকান্দা নামক স্থানে মাড়াই ঝাড়াই করে ধান সংগ্রহ করে। খিলাকান্দার পার্শ্ববর্তী সড়ক দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে করে সেই ধান কৃষকেরা ঘরে তোলেন। একই কান্দা স্থানীয় কৃষকদের গরুর চারণ ভূমি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু স্থানীয় কৃষকদের এমন সুবিধার কথা চিন্তা না করে নওয়াব আলী তার ব্যক্তি স্বার্থে ওই সড়কের উপরিভাগে সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর চেষ্টায় লিপ্ত থাকাসহ সেই পাম্প দিয়ে ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পত্তিতে ফসল উৎপাদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে খিলাকান্দায় কৃষকের ধান মাড়াই কাজ বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি গোচারণ ভূমি বিনষ্ট ও হাওর থেকে ধান পরিবহন করা নিয়ে কৃষকদের বিপাকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত নওয়াব আলী বলেন, ‘গ্রামবাসী আমাকে একটা ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে। তারা বলছে সড়কের ক্ষতি হয়ে যাবে, গরু ঘাস খেতে পারবে না, মাঠ অনাবাদী হয়ে যাবে। কিন্তু হাওর থেকে কৃষকেরা যাতে সহজেই ধান পরিবহন করতে পারে সে ব্যবস্থা আমি করে দিতাম। এখন যেহেতু গ্রামবাসী বাধা দিয়েছে তাই আমি কাজ বন্ধ রেখেছি। আমার বড় (অভিযোগকারী আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী) ভাই কেমন মানুষ তা এলাকায় খোঁজ নিলেই জানা যাবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’