এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
গ্রামাঞ্চলে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ শুরু হলে স্থানীয় কুচক্রী মহল বিভিন্ন কৌশলে গ্রামের সহজ সরল গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। তবে কখনও নিরীহ গ্রামবাসী স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে ঝামেলা এড়াতে এমন ঘটনা সহজেই চেপে যান। আবার কখনও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা নিজেদের আড়াল করে সুকৌশলে সত্য ফাঁস করে দেন সবার সামনে। এমন ঘটনাই ঘটেছে ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার প্রত্যন্ত অঞ্চল বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে। সেখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি আনার নামে গ্রামবাসীর কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়া শুরু হলে কেউ কেউ বিষয়টি চেপে রাখলেও কয়েকজন গ্রাহক তা প্রকাশ করে দিয়েছেন। তারা অভিযোগ জানিয়েছেন, ওই ইউনিয়নের খিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সামিউল কিবরিয়া শামীম ও বংশীকুন্ডা মমিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুরঞ্জন সরকারসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির অধীনে ওই ইউনিয়নের বংশীকুন্ডা, ডুলপুশি, দক্ষিণউড়া, বাট্টা, বাসাউড়া ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ চলছে। অভিযুক্ত সামিউল কিবরিয়া শামীমের নেতৃত্বে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে কয়েকমাস আগে বংশীকুন্ডা বাজারে সভা করে স্থানীয় গ্রামবাসীকে বুঝানো হয় যে, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মিটার ও ওয়্যারিংয়ের টাকা ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না কিন্তু বৈদ্যুতিক খুঁটি এলাকায় তাড়াতাড়ি আনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কিছু খরচপাতি (টাকা) দিতে হবে। নইলে ঠিকাদার এলাকায় কাজ করতে গড়িমসি বা দেরি করবে। ওই সভার অডিও ক্লিপ এলাকাবাসী এ প্রতিবেদকের কাছে সরবরাহ করেছেন। পরে ওই গ্রামগুলো থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য একটি করে কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির লোকজন গ্রাম থেকে প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা করে আদায় করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রাহক জানিয়েছেন, টাকা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ পাবেন না এই ভয়ে টাকা দিচ্ছেন তাঁরা। টাকা উত্তোলনকারীরা গ্রাম থেকে টাকা উত্তোলন করে সামিউল কিবরিয়া শামীমসহ যারা বিষয়টিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের কাছে জমা দেয়। কিন্তু উত্তোলিত টাকা সত্যিই ঠিকাদারের কাছে যাবে নাকি নিজেরাই ভোগ করবে তা জানতে পারছে না গ্রাহকেরা।
দক্ষিণউড়া গ্রামের টাকা উত্তোলনকারী কমিটির সভাপতি নিরেন্দ্র কুমার ভদ্র দাবি করেছেন, শ্রমিকদের খাবার সরবরাহ করার জন্য দক্ষিণউড়া গ্রামের গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা করে উত্তোলন করা হয়েছে। উত্তোলিত টাকা সুরঞ্জন সরকারের কাছে রাখা হয়েছে। যার পরিমাণ ১ লাখ টাকার ওপরে। তবে অভিযুক্ত সুরঞ্জন সরকার দাবি করেছেন, তাঁর কাছে কেউ কোনো টাকা রাখেনি। বিষয়টি নিয়ে অযথাই কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে।
ডুলপুশি গ্রামের টাকা উত্তোলনকারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকার জানিয়েছেন, গ্রামবাসীর কাছ থেকে উত্তোলিত ৪৫ হাজার টাকা তার কাছেই রয়েছে। এলাকার লোকজন বিভিন্ন কাজে বাইরে থাকে। হঠাৎ করে টাকা লাগলে টাকা পাওয়া যাবে না। তাই আগেভাগেই প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা তুলে রাখা হয়েছে। নিশ্চিতপুর গ্রামের কয়েকজন গ্রাহক জানিয়েছেন, ওই গ্রামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন আব্দুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি। আব্দুর রশিদ দাবি করেছেন, এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না তিনি।
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সামিউল কিবরিয়া শামীম জানান, বৈদ্যুতিক খুঁটির নামে কোনো টাকা তোলা হচ্ছে না। গ্রাম পর্যায়ে টাকা উত্তোলনের জন্য কোনো কমিটি করা হয়নি। টাকা তোলা হচ্ছে এমনটি জানেন না এবং কেউ কোনো টাকা তাঁর কাছে দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য যে টাকা আদায় করা হচ্ছে তা স্থানীয় লোকজন আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টির প্রতি প্রশাসনের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জিএম মুজিবুর রহমান জানান, বিদ্যুতের খুঁটি নেওয়ার জন্য কোনো টাকা লাগে না। যদি কেউ টাকা নেয় তাহলে বুঝতে হবে তারা ধান্দাবাজ, টাউট বাটপার ছাড়া কিছুই নয়।
- জগন্নাথপুর আওয়ামী লীগে ঐক্যের সুবাতাস!
- হাওররক্ষা বাঁধ দুর্নীতি মামলা- দিরাইয়ে পিআইসিকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ


