দিরাই প্রতিনিধি
হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির কারণে গতবছর হাওর তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে দ্বিতীয় দফায় দিরাইয়ে এসেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’এর তদন্তকারী দল।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যর তদন্ত দল দিরাই উপজেলা গণ-মিলনায়তনে বাঁধের পিআইসির সভাপতি ও সম্পাদককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ‘গতবছর হাওর তলিয়ে যাওয়ার পর বাঁধ নির্মাণের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে তদন্তে নামে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দফায় অনুসন্ধানের জন্য বাঁধ নির্মাণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্টদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
দুদকের তদন্ত দলটি তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে বাঁধ নির্মাণের অনিয়মের সাথে কারা জড়িত, বাঁধের কাজ করতে গিয়ে কাদেরকে পার্সেন্টেজ দিতে হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)র কর্মকর্তাদের কি কি গাফলতি ছিল, এরকম বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পিআইসি ছাড়াও সাধারণ মানুষের সাথে এনিয়ে কথা বলবেন তারা।
হাওরের পানি নেমে যাওয়ার পর ভেঙে যাওয়া বাঁধ এলাকায়ও তদন্ত করা হবে উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রঙ্গত, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ১৫ জন পাউবোর কর্মকর্তা, ৪৫ জন ঠিকারদার ও ঠিকাদারের সহযোগিসহ ৬১ জনকে আসামী করে গত ২ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ। এরপর গত ৩ আগস্ট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল হক বাদী হয়ে পাউবো কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও পিআইসির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। এই মামলাটিরও তদন্ত করছে দুদকের তদন্তকারী দল।
- ধর্মপাশা ঠিকাদারের দোহাই দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র
- ছাতকে সরকারি টিলা কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ


