স্টাফ রিপোর্টার
ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দীলিপ মজুমদার তার লোকজন নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্থানীয় খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করছেন। এ কারণে প্রকৃত কৃষকরা খাদ্য গোদামের আশপাশেও আসতে পারছে না। দীলিপ মজুমদার তার ছোট ভাই স¤্রাট মজুমদারকে দিয়ে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে এই সি-িকেট ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে কম মূল্যে ধান সংগ্রহ করে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি কার্ড নিয়ে খাদ্যগুদামে ধান বিক্রয় করছেন। স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী সরেজমিনে খাদ্যগুদাম গেলে দীলিপ মজুমদার সেখানে উপস্থিত হয়ে সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন।
জানা যায়, রোববার সকালে ধর্মপাশা খাদ্যগুদামের সামনে নদীর ঘাটে ধান বোঝাই একটি বাল্কহেড এসে নোঙ্গর করে। খাদ্যগুদামের কার্যক্রম চালু হলে সেই বাল্কহেড থেকে বস্তায় করে কৃষক ছাড়া ধান খাদ্যগুদামে উঠানো শুরু হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। খবর পেয়ে দুপুরে সাড়ে ১২ টার দিকে বিষয়টি দেখতে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইসহাক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক এমএমএ রেজা পহেলসহ স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী খাদ্যগুদামে যান। এ সময় সম্রাট মজুমদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, প্রায় ১ হাজার ৪০০ মণ ধান সুনামগঞ্জের শাল্লা থেকে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে এনেছেন তিনি। এ সময় সংবাদকর্মীরা কৃষক ছাড়া ধান দেওয়ার সুযোগ নেই, এমনটি বললে সম্রাট মজুমদার ক্ষেপে গিয়ে তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দীলিপ মজুমদারকে ফোন করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে দীলিপ মজুমদার খাদ্যগুদামে উপস্থিত হয়ে সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন। এসময় খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।
ঘটনাস্থলে দীলিপ মজুমদার সংবাদকর্মীদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি ও হুংকার দিয়ে বলেন, ‘মাইর করলে লাঠি নিয়া আয়। সাংবাদিকের কার্ড আমি বানাইতে পারি। ধান দিলে দেখি কে ফিরায়?’
উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমএমএ রেজা পহেল বলেন, ‘সি-িকেটের মাধ্যমে ধান সরবরাহ করে প্রকৃত কৃষকদেরকে বঞ্চিত করছেন আপনি। আবার সংবাদকর্মীদের সাথে এমন অশুভন আচরণও করছেন।’
ধর্মপাশা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি এর সাথে জড়িত নই। কৃষকদের সাথে নিয়েই উনি (সম্রাট) ধান দিচ্ছেন।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, ‘এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির রহমান বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। ধান ক্রয়ে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এটি সংরক্ষিত এলাকা এখানে প্রবেশের আগে আমাদের জানিয়ে যেতে পারতেন গণমাধ্যম কর্মীরা।
- ধর্মপাশায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুল ছাত্র আহত
- দোয়ারায় শতাধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে ফেইসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ


