ধর্ষিতার পিতার আহাজারিতে কতোটা বাতাস ভারী হলে ধর্ষককে খুঁজে পাওয়া যাবে ?

জগন্নাথপুরের এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত যুবক ইউনুস মিয়াকে ঘটনার দেড় মাস পরেও গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হওয়া পুলিশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তির গায়ে কিছুটা হলেও ছায়া পড়ে। জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের এক কৃষক কন্যা ধর্ষণের শিকার হন গত ২৫ জুলাই। একই ইউনিয়নের চকাশিমপুর গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে ইউনুছ মিয়া ওই মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। মেয়েটি নিজের বাবা মাকে ঘটনাটি জানালে তারা ধর্ষকের বাড়ি গিয়ে সামাজিক বিচারপ্রার্থী হন। ধর্ষকের পরিবারের লোকজন ধর্ষিতার অসহায় পিতাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় কলেজ ছাত্রী লজ্জা ও ঘৃণায় গত ৩১ জুলাই আত্মহননের মাধ্যমে জীবন বিষর্জণের সিদ্ধান্ত নেয়। ধর্ষকের বাড়বাড়ন্ত সমাজ তাকে ২৫ জুলাই থেকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। একটি সপ্তাহের নির্মম এই যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে হতে সে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর পথ বেছে নেয়। কিন্তু মেয়েটির এই করুণ আত্মহননও কি পথহারা ভ্রষ্ট সমাজ ও প্রতিষ্ঠানকে কিছু শিক্ষা দিতে পেরেছে? পারেনি যে তার হাতের কাছের প্রমাণ তো এই, এখন পর্যন্ত ধর্ষকপ্রবর বীরপুঙ্গবটি আইনের দৃষ্টি এড়িয়েই থাকতে সক্ষম হয়েছে। ধর্ষিতা মেয়েটি জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার সহপাঠীরা মেনে নিতে পারে নি এই নির্মম ঘটনাপ্রবাহ। তারা আন্দোলনে নামে ধর্ষকের উপযুক্ত বিচারের দাবিতে। মামলা হয় আদালতে। জনৈক লন্ডনপ্রবাসী ধর্ষককে ধরিয়ে দিতে আর্থিক পুরষ্কার ঘোষণা করেছিলেন স্বপ্রণোদিত হয়ে। কিন্তু এইসব মানবিক তৎপরতা শেষতক ভেস্তে যেতে বসেছে। কারণ কথায় আছে বিলম্বিত বিচারপ্রক্রিয়া সুবিচারকেই বাধাগ্রস্ত করে। দরিদ্র কৃষক পিতাটি এই মামলার পিছনে কতোটা সময় ও টাকা খরচ করতে পারবেন সে নিয়ে সন্দেহের বিস্তর অবকাশ রয়ে গেছে। অন্যদিকে ধর্ষকের পরিবার নিশ্চয়ই নিজেদের গুণধর পুত্রকে বাঁচাতে খরচ ও তদবির করায় কোন ফাঁকফোকর রাখবেন না। এরকম অবস্থায় যদি বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতেই কাঁদে তাহলেও কারও বলার কিছু নেই।
যে পিতার কন্যা গেছে তার সবকিছু গেছে। এই মেয়েটি শিক্ষাজীবন শেষ করে পরিবারকে একটু স্বচ্ছলতা এনে দিতে পারত। তা তো হলোই না। উল্টো ধর্ষিতা হয়ে একটি সমাজের চরম অমানবিক ও নিষ্ঠুর চেহারাকে সকলের সামনে এনে অবশেষে দুনিয়াই ছেড়ে চলে গেল। এখানে অপরাধ দুইটি। ধর্ষণ তো রয়েছেই। এরপর খুনের (আত্মহনন তো ওই ধর্ষকের দ্বারা খুনেরই নামান্তর) অপরাধটি শেষ পর্যন্ত ধর্ষকের উপরই বর্তায়। অপমান ও লজ্জ্বা আর মেয়ে হারানোর সীমাহীন দুঃখ সারাটি জীবন এখন তার মা বাবা পরিবার পরিজনকে কুড়ে কুড়ে খাবে। এই অবস্থায় আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয়ভাবে নির্যাতিত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। হলো কই? ২৫ জুলাই থেকে আজ অবধি দেড় মাসেও যে আসামী ধর্ষকের খোঁজ পাওয়া যায় নি। আদৌ খোঁজ মিলবে কিনা কে জানে। এই ধীরগতি কখনও কন্যাহারা পিতার শান্ত¦না হতে পারবে না।
এই যে আমরা করুণ উপখ্যানের বর্ণনা দিলাম, এতে কারও সক্রিয়তা বাড়বে কি ?