বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় ৪০৫৬ জন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক বাদ পড়েছেন ২৫০ জন। এরা গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এবং ঈদ বোনাস পাননি। অবশ্য. গত সোমবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে তাঁদের ভাতা অব্যাহত থাকবে, একই সঙ্গে যাচাই-বাছাইও চলবে। এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নিয়ে কোন কোন উপজেলায় যাচাই-বাছাই কমিটি রাজনৈতিক চাপের সম্মুখিন হয়েছেন, বিশেষ করে কোন কোন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজনৈতিক নেতৃত্বের রোষানলেও পড়েছেন।
গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী সাত সদস্যের উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
জেলার ছাতকে উপজেলায় গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন ৪৬০ জন। যাচাই-বাছাই কমিটি ৭৫ জন মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে দ্বিধাবিভক্ত মতামত দেওয়ায় এঁদের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে ৩৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে
অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের সুপারিশ করে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি।
জামালগঞ্জে ১৮৮ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া ৩২ জনের ভাতা স্থগিত হয়ে যায়।
শাল্লায় ২০৮ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া ২৪ জনের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬৬৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে ১৪ জনের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
বিশ্বম্ভরপুরে ৫০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েন ৪০ জন এবং এঁদের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
এই উপজেলার যাচাই-বাছাই কমিটির একজন দায়িত্বশীল সদস্য বলেছেন,‘কোন প্রমাণ দেখাতে পারেন নি, এমন দুই জনের নাম গেজেটে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এরা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধী পক্ষে ছিলেন এমন কথা-বার্তাও রয়েছে। অথচ. তাদেরকে বাদ দেওয়ায় রাজনৈতিক নেতারাও তদবির করেছেন। এমনকি হুমকি-ধামকি’র সুরেও কথা বলেছেন।’ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি’র আরেক সদস্য জানান, পরে এঁদের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য রীতিমত অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন একজন রাজনৈতিক নেতা।
ধর্মপাশা উপজেলা কমিটির ১১৯ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে কেউ-ই যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েননি।
দিরাই উপজেলার ৪৯৯ জন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ১৭ জন যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন এবং তাঁদের ভাতাও জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
জগন্নাথপুর উপজেলায় যাচাই-বাছাইয়ে ১৪৪ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ১৭ জন বাদ পড়ায় তাঁদের ভাতা প্রদান বন্ধ ছিল।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে ৪ জন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েন এবং ২ জনের ভাতা বন্ধ ছিল।
তাহিরপুরে ৩১৭ জন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে ৮ জনের বিষয়ে দ্বিধা-বিভক্তি দেখা দেয় এবং ভাতা বন্ধ থাকে ৪ জনের।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৮০৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে ১৯ জনের বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ায় তাঁদের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবু সুফিয়ান বলেন,‘যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে যাদের বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল, তারা জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর এবং ঈদের বোনাস পাননি। এখন তাঁদের ভাতা প্রদানের নির্দেশ হয়ে থাকলে একসঙ্গে হয়তো বকেয়াসহ পেতে পারেন।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান বলেন,‘দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে যাদের ভাতা বন্ধ হয়েছে তাঁদের ভাতা প্রদান অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিষয়ে যাচাই-বাছাইও চলবে। উপজেলা ও জেলা কমিটির যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’


