নক্ষত্রের পতন

অ্যাড. স্বপন কুমার দাস রায়
ভাবা যায় খসরু ভাই আর বেঁচে নেই। সোনালী সকালের প্রাণপুরুষ আমাদের অভিভাবক বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সুনামগঞ্জের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটার, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং একজন আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সিনিয়ন আইনজীবী অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ খ্রি. চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রাত:ভ্রমণকারীদের সংগঠন সোনালী সকালের একজন সদস্য হিসেবে একটানা ঊনত্রিশ বছর হেঁটেছি উনার সাথে। শীত, গ্রীষ্ম কোনো কিছুই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোর বেলায় হাঁটতে বের হয়ে তিনি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলেন। আমরা তাঁকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত ডাক্তার বললেন, ব্লাডপ্রেসার নেমে গেছে। খাবার বাড়ানোর পরামর্শ দিলেন। বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হলো।
আজ দুপুরে আইনজীবী সমিতিতে থাকা অবস্থায় শুনতে পেলাম গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পরই সহকর্মী বিজ্ঞ বন্ধু সাংবাদিক খলিল রহমান আমাদের সাধারণ সম্পাদককে মোবাইল ফোনে জানালেন খসরু ভাই আর নেই।
বোবা কান্নায় বিধ্বস্ত হয়ে গেলাম। প্রিয় মানুষটি লাশের দিকে তাকিয়ে কেবলই মনে হলো ঊনত্রিশ বছরের ভোরের সাথী কোন অভিমানে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়লেন।
আর তো শুনতে পাবো না “স্বপন তাড়াতাড়ি হাঁটো”। চলে গেলেন আমাদের আদর্শের আপনজন- যার কাছে সকল কথা বলো যেতো। যিনি আগলে রাখতেন প্রিয় অনুজের মত।
সর্বশক্তিমান উনাকে বেহেস্তের সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করুন।