স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে পাহাড়ী নদীসহ সুরমা নদীর পানি কয়েক সেন্টিমিটার কমলেও এখনও (সোমবার বিকাল ৩ টা) পানি সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে বিপদ সীমার ২৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি কূল উপচে প্রবেশ করায় সুনামগঞ্জ ও ছাতক পৌরসভার বেশিরভাগ এলাকাসহ জেলার সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, বিশ^ম্ভরপুর, তাহিরপুর ও ধর্মপাশায় উপজেলার নতুন নতুন এলাকা বন্যা কবলিত হয়েছে। এই উপজেলাগুলোর কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পানিবন্দি মানুষজন নিজেদের গৃহপালিত গরু-ছাগল নিয়েও বিপদে পড়েছেন।
বেহেলী ইউনিয়নের আরশিনগর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বললেন, গরু-ছাগল নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবো। আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে বাড়ি দেখবে কে, নিজের খাওয়া, গরু-ছাগলে খাওয়া দাওয়া, এরপর আবার করোনা সক্রমণের ভয়ও আছে। এজন্য ঘরে হাটু সমান পানি নিয়েই বাস করছি। নিজেরা চৌকি উঁচু করে রান্না-বান্না ও ঘুমানোর ব্যবস্থা করলেও গরুগুলো ৩ দিন হয় পানির মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বশির আহমদ জানিয়েছেন, বন্যায় সারা জেলায় আউশ ও রূপা আমনের প্রায় ৮০০ হেক্টর বীজতলা ডুবেছে।
এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে জেলার দোয়ারাবাজার, দিরাই, শাল্লা ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী বাজার ও গ্রামগুলোয় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এছাড়া সড়ক ডুবে যাওয়ায় জেলার ছাতক, দোয়ারা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, জগন্নাথপুর ও বিশ^ম্ভরপুরের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া ৮ লাখ টাকা ও ৩৪৫ মে.টন চাল বন্যার্তদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


