আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
আমরা অখন বউ পোলাপাইন লইয়া কই যামু,বাপ দাদার বিটা ছিলো ঐ নদীর মাঝ খানো,বাড়ী ঘর ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ইখানে আইছে,অখন জিলাখান ভাঙ্গতাছে আর যাওনের জায়গা নাই,আমরার কথা কেউ হুনে না আমরা বছর বছর মেম্বার আর চেয়ারম্যানের কাছে যাই, নেতারারেও কই, কেউ আর আমরার ভাঙ্গাটা বাইন্ধা দেয়না। আমরা একটু লেখেন, যদি সরকার আমরার একটা ব্যবস্থা কইরা দেয়।’
এভাবেই মনের দুঃখে কথা গুলো বলছিলেন উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের উজ্জলপুরের নদী ভাঙ্গন কবলিত আশি উর্ধ গিয়াস উদ্দিন। তার সাথে এক হয়ে গলা মিলিয়ে পঙ্গু কামাল উদ্দিনও তার আক্ষেপের সাথে জানালেনÑ ‘আমি এমনিতে অসহায়, বাপদাদার ভিটাত আছি, নিজে জায়গা কেনা আমার সম্ভব নয় ছেলেমেয়েদের নিয়ে চলাচলই আমার জন্য কষ্টের’ এই বলে।
শুধু এই দুইজন নয়, আশে পাশের অনেক পরিবারেই তাদের দু:খ আর বেদনার কথা জানিয়েছেন। বর্ষা কালে নদীর ঢেউ আর পানিতে তাদের ঘর বাড়ীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা তারা জানিয়েছেন। গত বৃহ:বার দুপুরে ভীমখালীর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে সাথে নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের বড় ঘাগটিয়া, উজ্জলপুর সড়কটি নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। এখনো এই রাস্তা দিয়ে শাহপুর, গোলামীপুর, ছোট ঘাগটিয়া, বড়ঘাগটিয়া, উজ্জলপুরের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। গেল বন্যা ও আগের বন্যায় উপজেলা প্রশাসন থেকে মেরামতের জন্য বরাদ্দ দিলেও এর সিকি ভাগ কাজ হয়নি বলে স্থানীয় ঘাগটিয়া ও উজ্জলপুরের অধিবাসীরা জানিয়েছেন। নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে দ্রুত জামালগঞ্জের এই পুরাতন রাস্তাটিকে মেরামত করার জোর দাবী এলাকাবাসীর। অবশ্য জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী নিজের দায় এড়িয়ে বলেছেন নদীর পাড়ের রাস্তার দেখবাল করার দায়িত্ব আমার না পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তা ব্যক্তি জানালেন আপাতত নদী শাসন প্রকল্পের জন্য আমাদের কোন বরাদ্দ নেই, তবে বাঁধটি মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জামালগঞ্জ সহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের জামালগঞ্জ সদর থেকে সুনামগঞ্জের যোগাযোগেরও একমাত্র সড়কও এটি। গত কয়েক বছর ও গেল বন্যায় সড়কটি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রাস্তাটি সংস্কার ও প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ না করায় যতই দিন যাচ্ছে ভাঙ্গাটি ততই বৃহৎ আকার ধারণ করছে। অবশ্য গেল বন্যার পর পরই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছিলেন।
ভীমখালীর নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন,আমি গতকাল থেকে দায়িত্ব নিয়েছি,আমার প্রথম কাজ হবে আমাদের প্রাচীন এই রাস্তাটিকে মেরামতের।
ভীমখালীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া বলেন, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের এই অংশটি পুরনো, এখনো ৫-৬ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে। আমি রাস্তাটির সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিস্ট সকলকে জানাবে।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার বলেন, নদীর পাড়ের রাস্তায় ভাঙ্গন দেখা দিলে এলজিইডির কোন কিছু করার থাকে না। রাস্তাটি দেখভালের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
সুনামগঞ্জ পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস বলেন, আপাতত নদী শাসন প্রকল্পের কোন বরাদ্দ নেই। জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের উজ্জল পুর গ্রামের পাশে যে ভাঙ্গাটি গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আগামী কাবিটা প্রকল্পে পাউবোর পক্ষ থেকে ভাঙ্গাটি মেরামতের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হবে।


