বিশেষ প্রতিনিধি ও আল আমিন
সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের অসহনীয় যন্ত্রণা ৫ বছর ধরে সইছেন দোয়ারাবাজার সীমান্তের শতাধিক গ্রামের মানুষ। বর্ষায় পাহাড়ী ঢল নামলে বাড়ি-ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়, একনাগারে সপ্তাহ্ থেকে ১৫ দিন জলাবদ্ধতায় ভোগেন লক্ষাধিক মানুষ। যোগাযোগ সড়কেও থাকে হাঁটু সমান পানি। গবাদিপশু থেকে শুরু করে গৃহপালিত পশু নিয়েও বেকায়দায় পড়েন এলাকাবাসী। বার বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ধরণা দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
স্থানীয় লোকজন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিপ্তরের দায়িত্বশীলরা জানান, ২০০২-০৩ অর্থ বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে দোয়ারাবাজার সীমান্তের পাহাড়ী নদী খাসিয়ামারা নদী শাসন, এলাকার ফসলী জমি আবাদ এবং উপজেলার লক্ষীপুর, বোগলা এবং সুরমা ইউনিয়নবাসীকে পাহাড়ী ঢলের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে রাবারড্যাম নির্মাণ করা হয়। রাবারড্যামের দুই পাশে একই সময়ে বাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। রাবারড্যাম’এর উপকারিতাও পান এলাকাবাসী। ২০১৪ সালে পাহাড়ী ঢলে রাবারড্যামের পূর্ব পাশের বাঁধের প্রায় আড়াই’শ ফুট অংশ পানিতে ভেসে যায়। এরপর থেকে দুর্ভোগের শেষ নেই এলাকাবাসীর। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আবারও ৯৪ লাখ ১২ হাজার ৬২৭ টাকা ব্যয়ে রাবারড্যামের মেরামত কাজ হলেও বাঁধের ভাঙা অংশের কাজ হয় নি। একারণে বছরের ৬ মাস সীমান্তের ৩ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে ভোগেন। গত ৫ বছরে পাহাড়ী ঢলের পানিতে আসা পলি ও বালিতে এলাকার ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে অনেক। চাষাবাদ হচ্ছে না প্রায় ৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমির।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন,‘রাবারড্যামের ভাঙনে এই অঞ্চলের ফসলি বিনষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাবাজার হতে দোয়ারাাজার পর্যন্ত সড়ক বর্ষায় পানির নীচে থাকে। গত বছর পাহাড়ী ঢলে স্থানীয় মহবব্বতপুর বাজারের দোকানীদের ৩ কোটি টাকার মালামাল ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। অনেকের বাড়ি-ঘর ভেসে গেছে।’
রাবারড্যামের পাশের কাগুরা গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন,‘ভাঙনের কারণে খাসিয়ামারা নদীর পানি ব্যবস্থাপনার বিপর্যয় হয়েছে, এ কারণে তিন ইউনিয়নের কোন হাওরে বোরো আবাদ হচ্ছে না। কৃষকরা কষ্টে আছেন।’
রাবারড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাইজুদ্দিন তাজুদ বলেন,‘রাবারড্যামের পাশের বাঁধ ভাঙায় ৩ ইউনিয়নের ছোট ছোট হাওরগুলোতে এবারো বোরো জমি আবাদ হবে না। পাহাড়ী ঢলে ভাসিয়ে নেবার ভয়ে পুকুরে মাছ চাষ করেন না কেউ। বছরের ৬ মাস সড়ক যোগাযোগেরও বিপর্যয় ঘটে।’
স্থানীয় সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশিদ বলেন,‘বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম হয়েছিল, এ কারণে বাঁধ ভেঙে যায়, লাখো মানুষ বিপন্ন। দ্রুত এই বাঁধের কাজ না হলে মানুষ এই এলাকা ছেড়ে চলে যাবে।’ তিনি জানান, মানুষকে এই বিপদ থেকে বাঁচানোর জন্য বার বার এলজিইিডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড’এর কর্মকর্তাদের কাছে গেলেও তারা কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ জানান,‘খাসিয়ামারা নদীর পানির ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। প্রতিবছর পাহাড়ী ঢলে দুই পাড়ের যেকোনো এক পাড় ভেঙে যায়। এই বাঁধটি নতুনভাবে করার জন্য এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সরেজমিনে এলাকায় গেছেন। তারা মতামত দিয়েছেন নদীতে পানির চাপ কমানোর জন্য বাঁধের দুটি স্থানকে নীচু করে কজওয়ে নির্মাণ করে দিতে হবে। তাতে অকাল বন্যা রোধ হবে। বন্যার সময় পানি কজওয়ে দিয়ে বের হবে। বাঁধের কিছু অংশ পানি উন্নয়ন বোর্ড’এর থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে এই প্রস্তাব পাঠালেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নীচু করতে রাজি হয়নি। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির গেল মাসের সভায় জেলা প্রশাসক এলাকার মানুষকে রক্ষা করার জন্য খাসিয়ামারা নদীরপাড়ের এই বাঁধের কাজ করে বা বিকল্প ব্যবস্থায় পাহাড়ী ঢল থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করার উদ্যোগ নেবার অনুরোধ করেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম জানালেন, বাঁধের উচ্চতা কমানোর অনুমোদন দেবার এখতিয়ার তাদের নেই। তাঁরা এলজিইডিকে জানিয়েছেন, বাঁধের উচ্চতা ঠিক রেখে কজওয়ে বা রাবারড্যাম নির্মাণ করা যেতে পারে।
- মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে
- শুভ মুজিববর্ষ- আসুন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কায়েমে সচেষ্ট হই


