সু.খবর ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে এক শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হতে পারেননি হাইকোর্ট। এই প্রতিবেদনকে দায়সারাগোছের উল্লেখ করে আগামী ৮ জুনের মধ্যে আবারও প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। রবিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় ডিসি, এসপি ও বন্দর থানার ওসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন রবিবার আদালতে জমা দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন। কিন্তু আদালত এই প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জের ডিসি, এসপি ও বন্দর থানার ওসি যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, তা দায়সারাগোছের। এতে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা সুস্পষ্ট করা হয়নি। এ জন্য আগামী ৮ জুনের মধ্যে তাদের ফের প্রতিবেদন দিতে হবে।
আদালত
আরও বলেন, দ্বিতীয় দফায় ঠিকমতো প্রতিবেদন না দিলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ৯ জুন বিষয়টি ফের আদালতের কার্যতালিকায় আসবে।
গত ১৮ মে নারায়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা সংশ্লিষ্টদের তিন দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে বলা হয়। সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ পত্রিকায় প্রকাশিত শিক্ষকের কান ধরে ওঠবস করার ঘটনায় প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।
গত ১৪ মে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হলে তিনি আহত হন। পরে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরে ওঠ-বস করানো হয়। এই ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
- বিদ্রোহীরা ভাল করেছেন- শান্তিপূর্ণ ভোটে বৃষ্টির ভোগান্তি
- জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে ৭ দিনব্যাপী শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তি কর্মশালা


