ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় হেফাজত সমর্থকদের হামলায় আহত যুবক জাহানুর আহমেদ মনির হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গত শুক্রবার রাতে তিনি ধর্মপাশা থানায় এ মামলা করেন। এদিকে শনিবার সকালে এ হামলার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত এমদাদুল হক ও সুলতান রাজা নামের দুই ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে জাহানুরকে নাস্তিক তকমা দিয়ে তার ওপর হামলা চালায় হেফাজত সমর্থকেরা। উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের জাগবর আলীর ছেলে জাহানুর সুনামগঞ্জ শহরে একটি কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিতে চাকরি করে।
গত ২ মে হেফাজত ইসলামের সাবেক নেতা মামুনুল হকসহ অন্যান্য নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন গণমাম্যমে প্রচারিত সংবাদ জাহানুর তার ফেসবুকে শেয়ার করায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল স্থানীয় কয়েকজন হেফাজত সমর্থক। তাদের মধ্যে একই রহমতপুর গ্রামের মৃত বৈশাখ আলীর ছেলে এমদাদুল হক জাহানুরকে মুঠোফোনে মারধরের হুমকিও দিয়েছিল। এছাড়াও ফেসবুকে জাহানুরকে নাস্তিক উপাধি দিয়ে তার বিচার দাবি করে পোস্ট করতে থাকে হেফাজত সমর্থকেরা। তাই ভয়ে ঈদে তিনি বাড়িতে আসেননি। গত শুক্রবার জাহানুর তার ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাড়িতে আসলে রাজাপুর বাজারে এমদাদুল হক, রংপুর গ্রামের সালাম উদ্দিনের ছেলে সাইদুর রহমান রোমান ও রহমতপুর গ্রামের রাজু আহমেদের ছেলে সুলতান রাজা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয় জাহানুর। জাহানুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে শুক্রবার রাতেই এমদাদুল হক, সাইদুর রহমান রোমান ও সুলতান রাজাসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় মামলা করেছেন। উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল উপজেলার জয়শ্রী বাজারে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে হেনস্থা ও তার ওপর হামলা করেছিল হেফাজত সমর্থকেরা।
জাহানুর আহমেদ মনির বলেন, ‘হামলাকারীরা হেফাজতের কট্টর সমর্থক। এ দেশে উগ্রবাদীদের ঠাঁই হতে পারেনা। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘এ ব্যাপারে জাহানুর বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছে। এমদাদুল ও সুলতান হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’


