নিবেদিতাকে অনুকরণ করতে চায় অন্যরা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
বাসগৃহ থেকে বিদ্যালয়ের দুরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। বর্ষায় বিদ্যালয়ে যেতে গেলে উপজেলা সদর থেকে রিকশায় বা ইজিবাইকে করে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ৪ কিলোমিটার ভাঙা সড়ক। মাঝে মধ্যে যানবাহনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে সেখান থেকে নৌকায় করে যেতে হয় বিদ্যালয়ে। শুকনো মৌসুমে হাওরের পানি শুকিয়ে গেলে কিছুদিন সেই পথ হেঁটে যেতে হয় কর্মস্থলে। হাওরের কান্দা পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে কখনও শুরু হয় ইজিবাইক চলাচল। কিন্তু সেই ইজিবাইকও বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছায় না। ফলে সময় ও অর্থের অপচয় হয় রোজ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিবেদিতা দেবনাথ গত সোমবার থেকে একটি স্কুটিতে করে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করছেন। গ্রামীণ পরিবেশে কোনো নারী শিক্ষকের এমন সাহসী পদক্ষেপ এই উপজেলায় প্রথম। আর স্থানীয়রাও বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
নিবেদিতা দেবনাথ উপজেলা সদরের কলেজ রোডের বাসিন্দা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইকোলজি বিভাগে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে রাজধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২০ সালের ৮ মার্চ সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু তিনি বিদ্যালয়ের যোগদানের পর থেকেই দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কর্মস্থলে যেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। তিনি প্রতিদিন উপজেলা থেকে কান্দাপাড়া পর্যন্ত ইজিবাইক বা রিকশায় এবং পরে সেখান থেকে হেঁটে বা ইজিবাইকে বিদ্যালয়ে যেতেন। এতে করে অনেক সময় অপচয় হতো। শুধু নিবেদিতা দেবনাথ নয়; ওই অঞ্চলের প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষককেই এভাবে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়।
নিবেদিতা দেবনাথ বলেন, ‘ভাঙা সড়ক দিয়ে ইজিবাইকে যাতায়াত করা একদিকে যেমন কষ্টসাধ্য তেমনি সময় সাপেক্ষ। তাই নিজের মতো করে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছি। যদিও ভাঙা সড়কের পর হাওরের কান্দা দিয়ে যেতে হয় তবুও খুব স্বাচ্ছন্দ্যে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করছি। এতে করে আমার শখও পূরণ হয়েছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারজানা শরমিন বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক। গ্রামের মানুষজনও বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখছেন। নিবেদিতাকে দেখে উৎসাহিত হয়ে আশপাশের অনেক নারী শিক্ষক স্কুটি কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘নিবেদিতা দেবনাথের এই সাহসী পদক্ষেপকে অবশ্যই স্বাগত জানাই। তাঁকে দেখে অন্যরা উৎসাহিত হবে এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের।’