৮ মাস ধরে অনুপস্থিত, শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
টানা আট মাস ধরে বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কবিতা রাণী সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই চিঠিতে আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে সরকারি বিধি অনুযায়ী তাকে কেন বরখাস্ত করা হবে না তার জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
কবিতা রাণী সরকার ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তিনি একই বছরের ১ থেকে ১৪ এপ্রিল, ১৫ থেকে ৩০ জুন, ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর অসুস্থ্যতাজনিত ছুটি নেন এবং ১১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর বিনানুমতিতে অনুপস্থিত ছিলেন। ২০২০ সালের ১ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিনানুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১১ মার্চ পর্যন্ত তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করেন। এ ছুটির পর ১২ মার্চ তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করে ১৩ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসের জন্য অসুস্থতাজনিত ছুটির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু এ ছুটি শেষে বিদ্যালয়ে যোগদানের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। এমনকি তিনি তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কøাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে কিংবা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি। ফলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবিতার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেন।
অসুস্থ্যতাজনিত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন এবং মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন দাবি করে কবিতা রাণী সরকার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে- এমনটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। সিভিল সার্জনের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আমার ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যালয়ে যোগদান করার জন্য বলা হয়েছে। আমার ছোট মেয়েটা অসুস্থ্য থাকায় আবারও তিন দিনের ছুটি নিয়েছি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘কবিতা রাণী সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আব্দুর রহমান বলেন, ‘ওর (কবিতা) ছুটি ফুরাবে না। মেডিকেল বোর্ড থেকেও তাকে ফিট দেখিয়ে বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। তাকে কেন সরকারি বিধি অনুযায়ী বরখাস্ত করা হবে না- তা জানতে চেয়ে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’