নিম্ন আয়ের মানুষের মাথায় হাত

সু.খবর রিপোর্ট
দেশ জুড়ে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আজ সোমবার থেকে ৭ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে লকডাউনে রুজি রোজগার বন্ধ। জীবন জীবিকা নিয়ে তাই চিন্তায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা বলছেন, নিম্ন আয়ের মানুষ করোনা কে ভয় পায় না, ভয় পায় লকডাউনকে।
পৌর শহরের ঠেলা, রিকশা, অটো রিকশা, সিএনজি চালক, বাদাম, চানাচুর, ঝালমুড়ি, ভাঁজাপুড়া, দইচিড়া বিক্রেতারা সহ নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের মাথায় হাত পড়েছে।
রিকশা চালক মনির মিয়া বলেন, লকডাউনের খবর শুনে মনে হয়েছে মাথায় আসমান এসে পড়েছে। লকডাউনে মানুষ তো ঘর থেকে বের হয় না। আমরা কেমন করে জীবিত থাকবো। প্রতিদিন না কাজে গেলে কেমন করে সংসার চালাবো।
ঝালমুড়ি বিক্রেতা জসিম উদ্দীন বলেন, গত এক বছর ধরে স্কুল-কলেজ বন্ধ। এমনিতেই আগের মতো রুজি নাই। চানাচুর, ঝালমুড়ি, বিক্রি করে কোন মতে পেটটা চলে। তার মধ্যে আবার লকডাউন দিয়েছে, কেমন করে বাঁচব আমরা। আমাদের মতো গরিব তো করোনায় মরে না। মরে ক্ষুধায়।
ঠেলা চালক রশিদ হোসেন বলেন, লকডাউন দিলে পেটে একমুটো ভাত দেয়ার তো উপায় নাই। ঠেলা গাড়ীর এমনি রুজি কমে গিয়েছে, এর মধ্যে লকডাউন হলে চলবো কেমন করে। আমি দিনে আনি দিনে খাই। বউ-বাচ্চা নিয়ে আমরা ৬ জন। নিজে কি খাবো আর পরিবারকে কি খাওয়াবো।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারের চা ব্যবসায়ী জয়নুল মিয়া জানান, আমরা পরিবার নিয়ে বাঁচবে কীভাবে? আমাদের কী উপায় হবে?
এদিকে হাওরে পাকতে শুরু করেছে ধান। এক দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটাও শুরু হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে হবে ধান কাটার শ্রমিকদের। লকডাউনের কারণে গণপরিবহণ বন্ধ থাকলে শ্রমিক আসায় হবে বিলম্ব। সব মিলিয়ে লকডাউনের কারণে ব্যাপক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
পাথারিয়া ইউনিয়নের মুরাদপুরের আকিক মিয়া নামের এক কৃষক জানান, হাওরে জমি করেছি। ধানও পাকতে শুরু করেছে। এখন স্থানীয় শ্রমিক খুব একটা পাওয়া যায় না। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যদি শ্রমিকরা আসতে না পারে তাহলে স্থানীয় শ্রমিকদের মূল্য বেশি হবে। চাহিদা মতো ও সময় মতো পাওয়া যাবে না। এ নিয়ে চিন্তায় আছি। শিমুলবাঁক ইউনিয়নের কৃষক ছালেক নূরও প্রায় একই কথা বলেন।
দরগাপাশা ইউনিয়নের ছয়হারা মৌগাঁও পয়েন্টের আরেব ক্ষুদ্রব্যবসায় জামান আহমদ বলেন, এক সপ্তাহ লকডাউন। আমাদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই এক সপ্তাহ কীভাবে চলবো। চিন্তায় আছি।