কুমার সৌরভ
রাস্তার পাশের ডোবায় ফুটে আছে রাশি রাশি কচুরিপানা ফুল। এক গ্রামীণ বালিকা চুলের বেণিতে গুঁজে নিয়েছে টাটকা হলুদ-নীলাভ এর একটি। হাতে আরও একগুচ্ছ আমি বিমুগ্ধ হয়ে ডোবার ফুল আর পল্লী বালিকার অপরূপ স্বর্গীয় সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম। শহরে বসে বারান্দার টব আর ছাদের বাগান দেখে অভ্যস্ত চোখে এমন মনোহর প্রকৃতির রূপ খুব বেশি অচেনা ঠেকে। বনসাই অর্কিড অথবা লক্ষ টাকায় ফুটানো একটি নাইট কুইনের কাছে আমাদের চোখ ও মন পরাজিত হয়ে রয়েছে সেই কবে থেকে। নাগরিক কৃত্রিমতার সাথে কৃত্রিম শিল্পবোধটুকুকে ভীষণভাবে আজ কশাঘাত করল এই অযতেœর ডোবায় ফোটা অপাঙক্তেয় ফুল আর বালিকার সৌন্দর্যপ্রীতি। এখানে দেখলাম সেই আগের মতো প্রকৃতি ও মানুষ পরস্পর জড়াজড়ি করে ভালবাসায় সিক্ত হয়। বালিকা যখন মাঠের দিকে ছুটল তখন আকাশ থেকে একরাশ উদ্যাম হাওয়া বয়ে এলো। তাতে বালিকার এলোমেলো চুল ও দৌড়ানোর ভঙ্গিতে তার শরীর এমনভাবে দুলতে শুরু করল যেন পৌরাণিক অপ্সরা এখানে নেমে এসেছেন ইন্দ্রসভা মনে করে। মাথার উপর বৈশাখের রোদ তখনও তাপ ছড়াচ্ছে। এই তাপ মায়াবী পরিবেশকে কিছুতেই আজ শুষ্ক করতে পারছে না। এমন সময় কিছু মানুষের হৈহল্লা শোনা গেল অদূরে। তারা উত্তেজনায় ঠাসা শব্দের তুবড়ি ছুটিয়ে এগিয়ে আসছিল প্রধান রাস্তা বরাবরÑযেখানে আমি এখন পানকৌড়ি পাখির মনোযোগ নিয়ে দাঁড়িয়ে । তাদের হাতে রাম দা, বল্লম, বাঁশের লাঠি, কুচ এমনসব গ্রামীণ অস্ত্র। কাছাকাছি আসতেই বুঝা গেল ওরা নির্বাচনের প্রতিপক্ষকে কোন এক জায়গা থেকে হঠিয়ে বিজয়োল্লাসে এগিয়ে চলেছে। আমি চাইলাম পলমাত্র আগে নৃত্যের মতো ভঙিমার পল্লী বালিকার দিকে। দেখলাম তার চুলের বেনি থেকে কচুরিপানার ফুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। তার চোখে হরিণের ত্রস্ততা। সে এদিক ওদিক আশ্রয় খুঁজছে। কিন্তু কিছুতেই সে নিজেকে আড়াল করতে পারছে না একদল উন্মত্ত হিং¯্র মানুষের দৃষ্টি থেকে। আমি কি ওই পল্লী বালিকাকে বুকের দেয়ালে লুকিয়ে ভয় তাড়ানোর জন্য এগিয়ে যাব? দ্বিধা কাটছে না.. কাটছে না..।
০৬.০৫.২০১৬


