লন্ডন প্রতিনিধি
গুলশানে হলি আর্টিসান রেষ্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরির বৃটেনের বাংলা শাখার সদস্য। হাসনাত করিম লন্ডনের কুইনমেরী ইউনিভারসিটিতে অধ্যয়নকালীন সময় বৃটেনে এই সংগঠনটিকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় ছিলেন। হিযবুত তাহরির বৃটেন বাংলা শাখার সদস্যদের অনেকেই এই হাসনাত করিমের হাত ধরে হিযবুত তাহরিরের সদস্যপদ লাভ করেন এদের মধ্যে রয়েছেন হিযবুত তাহরির বৃটেন বাংলাশাখার অন্যতম নেতা লিয়াকত সরকার, নাজমুল ইসলাম, কামরুল হাসান, মুজিবুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম ইউকের নেতা ও চ্যারিটি সংগঠন স্ইেভ দ্য হিউম্যানেনিটির ফাউন্ডার নূরে আলম হমিদি সহ আরো অনেকে। এই হাসনাত করিম বৃটেনে হিযবুত তাহরিরের প্রতিষ্ঠাতা ঢাকার অধিবাসী নাসিম গনির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। পুরো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিযবুত তাহরিরের বাংলা শাখার সদস্য মি. চৌধুরী বলেন হাসনাত করিমের প্রচেষ্ঠায় বৃটেনে হিযবুত তাহরির বাংলা শাখা শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। হাসনাত করিম যখন লন্ডনের কুইনমেরী ইউনিভারসিটিতে অধ্যয়ন করেন তখন হিযবুত তাহরিরে যোগদেন। শুধু বৃটেন নয় বাংলাদেশেও সংগঠনকে এগিয়ে নিতে তার অবদান রয়েছে। এখানেই শেষ নয় হাসনাত করিম বৃটেন থেকে বাংলাদেশে যাওয়ার পরও বৃটেনের হিযবুত তাহরিরের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখেন। ২০১৩ সালে লন্ডনের হিযবুত তাহরির নেতা নূরে আলম হামিদী ঢাকায় হেফাজতের সমাবেশে গিয়ে গ্রেফতার হলে এই হাসনাত করিমের মাধ্যমে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বৃটেনে ফিরে আসেন। তিনি ফিরে আসলেও হেফাজতের পাশাপাশি হিযবুত তাহরিরের সাথে সক্রিয় থেকে তার প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি চ্যারিটি সংগঠনের মাধ্যমে প্রতি বছর লন্ডন থেকে বাংলাদেশের মসজিদ মাদ্রসার নামে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে ফান্ড কালেশন করে যাচ্ছেন। গেল রমাজান মাসেও তিনি বরুনা মাদ্রসা, মসজিদে আবুবকর, বরুনা হেফাজতে ইসলাম মহিলা মাদ্রসা , সেইভ দ্য হিউম্যানেটি, আল খলিল এডুকেশন ট্রাষ্টের নামে এই বছরও সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশী মুদ্রায় তিন কোটি টাকারও বেশী এই অর্থ কোন মাধ্যমে বাংলাদেশ যাচ্ছে বা কোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন বৃটেনের বাঙালি সমাজের। এখানে উল্লেখ্য যে হিযবুত তাহরিরের উল্লেখিত চ্যারিটি গুলোর প্রতিটি ফান্ডরেইজ অনুষ্ঠানের ভিডিও ক্যাসেট আমাদের সংগ্রহে রয়েছে।


