আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
টাঙ্গুয়ার হাওরে নিয়ন্ত্রণহীণভাবে চলছে হাউজবোট। উঠতি বয়সী যুবক যুবতীরাই এ হাউজবোটগুলোর প্রধান কাস্টমার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ট্রাভেলার জানান, তরুণীদের নিয়ে হোটেল মোটেলে রাত্রিযাপন করলে সম্পর্ক যাচাইয়ে এনআইডির প্রয়োজন হয়। কিন্তু হাউজবোটে রাত্রি যাপন করলে কোন এনআইডির প্রয়োজন হয় না। এছাড়াও হাউজবোটগুলোতে আছে মাদকের ছড়াছড়ি। কখনো পর্যটকরা সাথে করে নিয়ে আসছে মাদক। আবার ক্ষেত্র বিশেষ নৌকার মাঝিরা তাদের ম্যানেজ করে দিচ্ছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণের অভিযোগ- হাওরপাড়ের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি নৌকা ও হাউজবোটের ক্যাবিন (কক্ষ) উন্মূক্ত করে দেয়ার।
এদিকে টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌ চলাচলে স্টীল বডি নৌকায় ভাড়া নির্ধারনে প্রশাসনের নীতিমালা থাকলেও হাউজবোটে কোন নীতিমালা না থাকায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে উঠেছে হাউজবোট। বিগত বছরগুলোতে টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌ চলাচলে স্টীল বডি নৌকায় ভাড়া ছিল দিনের মধ্যে হাওরে ঘুরে আসার জন্য ৮ হাজার ও রাত্রিযাপনে তার দ্বিগুন। কিন্তু হাউজ বোটে কোন ভাড়া নির্ধারন করা হয়নি। এ জন্য টাঙ্গুয়ার হাওরে আগত ট্যুরিস্টরা ভোক্তা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিগত বছর টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ৬০ টির মতো হাউজ বোট ছিল। এ বছর হাওর এলাকায় নদীর পাড়গুলো ঘুরে দেখা গেছে প্রায় ২০০ হাউজ বোট নতুন করে নির্মাণ কাজ চলছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় এক্ষুনি হাউজবোটগুলো নিয়ন্ত্রনে নেয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন হাওরপাড়ের সচেতন মহল।
টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের আনন্দনগর গ্রামের বাসিন্দা নজির হোসেন বলেন, একটি হাউজ বোট প্রতি প্যাকেজে কমপক্ষে ২০ জন ট্যুরিস্ট নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণে আসে। এতে করে তারা জন প্রতি সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে খরচ নেয়। এর মধ্যে তাদের ৫ বেলা খাওয়াতে খরচ হয় জন প্রতি এক হাজার টাকা। ২০ জনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। নৌকা ভাড়া সহ খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু সরকারিভাবে কোন নিয়ন্ত্রন না থাকায় তারা প্রতি ট্রিপে লাভ করে ৯০ হাজার টাকা।
এ ছাড়াও হাউজবোটগুলো পূজা, ঈদ, ফুলমুন ও টানা দু’দিন সরকারি ছুটি থাকলে তারা ট্রিপ নিতে চায় না। ট্যুরিস্টদের বলে দেয় তাদের বুকিং হয়ে গেছে। সেসময় আরো অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজী হলে বুকিং নেয়।
টাঙ্গুয়ার হাওরের ট্যুরিস্ট গাইড সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী স্থানীয় নৌকাগুলো ভাড়া সংক্রান্ত ও চলাচলের বিষয় যেভাবে প্রশাসন নিয়ন্ত্রনে এনেছে সেভাবে হাউজবোটগুলোও নিয়ন্ত্রনে আনা জরুরী। হাউজবোটগুলো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে না থাকার কারণে ট্যুরিস্টদের কাছ থেকে তারা ইচ্ছে মতো প্যাকেজের ভাড়া আদায় করছে। হাউজবোটগুলোর মাঝিও যেন টাঙ্গুয়ার হাওরপাড় থেকে নেয়া হয় সে বিষয়েও তিনি প্রশাসনের নিকট দাবি জানান।
নৌকার মাঝি ফয়সল আহমদ বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে আগত পর্যটকদের মধ্যে বেশীর ভাগই থাকেন উঠতি বয়সের তরুণ তরুণী। তারা নৌকা ভাড়া নেয়ার আগেই নৌকার ভিতরে গিয়ে দেখতে চায় লক করা কেবিন আছে কিনা। যে নৌকাতে কেবিন নেই সে নৌকা তারা ভাড়া নিতে চায় না।
রতনশ্রী গ্রামের শওকত হাসান বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজ বোট আসার আগে একসাথে স্বামী স্ত্রী ছাড়া আসতে দেখা যেতো না। সরকারি কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অবাদে ছেলে মেয়ে হাউজবোটে রাত্রি যাপন করে। এমন কোন হাউজ বোট নেই যেগুলো চেক করলে মাদক না পাওয়া যাবে।
সুনামগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয়ের সহকারী উপ-পরিচালক আল আমিন বলেন, পর্যটকদের টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে নৌকা অথবা হাউজবোটের ভাড়া নির্ধারন করবে স্থানীয় প্রশাসন। সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত নিয়ে থাকলে তা ভোক্তা অধিকারের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, অনেকেই আমার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছে। হাউজবোটগুলোর ভাড়া নির্ধারণ ও চলাচল নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।


