নৌকায় হাওয়া লাগাতে সক্রিয় নয় আ.লীগ নেতা কর্মীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
‘নৌকার পালে হাওয়া লাগে নি, বিএনপি-জামায়েতের ভোটাররা ভেতরে ভেতরে ঐক্যবদ্ধ, এজন্য বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়েই এগুতে হবে।’ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের আওয়ামী লীগের কর্মী আব্দুল জলিলের মন্তব্য এটি।
কেবল আব্দুল জলিল নয়, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতা কর্মীই দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় নয়। এই উপজেলার উপ-নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে। মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ১১ জন। এরমধ্যে নৌকার পক্ষে এই পর্যন্ত প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন তিনজন। অন্যরা এখনো প্রচারণায়ই নামেন নি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালিক বললেন, ‘দলের প্রার্থী রাজনীতিতে সক্রিয় নয়, দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও তার কম, গত দুইদিন তিনি অসুস্থ হয়ে প্রচারণায়ও ছিলেন না, এই অবস্থায় কর্মীরা সাহস হারিয়ে ফেলছেন, আমরা চেষ্টা করছি মনোবল চাঙা করে নৌকার পক্ষে আওয়াজ তুলতে।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রহিম গত ৩০ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন হবে আগামী ২৭ জানুয়ারি। উপজেলায় মোট ভোটার এক লাখ ৬৯ হাজার ২২৬ জন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাবার জন্য আবেদন করেছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল আজাদ রুমান, দলীয় নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কদ্দুছ তিলক, অ্যাডভোকেট চান মিয়া, ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ছায়াদুর রহমান তালুকদার, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাবুল ও খন্দকার মামুনুর রশিদ।
এই ১১ মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে প্রচারণার শেষ মুহূর্তেও ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক, অ্যাডভোকেট রুহুল কদ্দুছ তিলক ও অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ছাড়া অন্যদের দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বললেন, দলের নেতা কর্মীদের বেশিরভাগই নৌকার পক্ষে প্রচারণায় আছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদের মধ্যে রুহুল কদ্দুছ ও শফিকুল ইসলাম নৌকার পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন। অন্যরাও হবেন। দলীয় প্রার্থী সক্রিয় রাজনীতিবিদ না হওয়ায় সাড়া জাগাতে পারছেন না মন্তব্য করে তিনি বললেন, শেষ পর্যন্ত বিজয় নৌকারই হবে।
নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা বা দলের নেতা কর্মীদের সক্রিয়তার বিষয়ে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এখনো খোঁজ খবর নেওয়া হয় নি জানিয়ে ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বললেন, কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে আমাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটি-ই আমরা সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে পাঠিয়েছি। দোয়ারাবাজারে যাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, ওই প্রার্থীকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে তালিকার প্রথম দিকেই তৃণমূল থেকে দেওয়া হতো, আমরাও দিতাম। সর্বোপরি দলের সিদ্ধান্ত সকলকে মানতে হবে। সকলে চেষ্টা করেই নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
এই উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নুরুল ইসলাম ছাড়াও স্বতন্ত্রের মোড়কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ বারী (আনারস), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আবু সালেহ (লাঙ্গল), উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরী (কাপ-পিরিচ)।