স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা নদীতে ৩ স্থানের অভয়াশ্রমে লুটপাট শুরু হয়েছে। মাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে এই অভয়াশ্রমগুলো স্থাপন করা হয়েছে। কিছু ব্যক্তি এসব অভয়াশ্রমে দিনে ও রাতের অন্ধকারে মা মাছ শিকার করে চলেছে। এদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের।
স্থানীয় একাধিক মৎস্যজীবী জানান, মাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে সুরমা নদীর ব্রাহ্মণগাঁও, ওয়েজখালী ও রামনগর এলাকায় অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবছর এসব অভয়াশ্রমে এক শ্রেণীর স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধ জাল দিয়ে দিনে ও রাতে মাছ শিকার করে থাকেন। এমনকি সুকৌশলে জাল পেতে অভয়াশ্রমের ভেতরে কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করে মাছ শিকার করে তারা। এদের আইনের আওতায় আনার দাবি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের।
ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের মৎস্যজীবী আপ্তর আলী বলেন, ব্রাহ্মণগাঁও অভয়াশ্রমে প্রতিবছর কিছু প্রভাবশালী মাছ শিকার করে। মাছের বংশ বৃদ্ধিতে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব বন্ধ করার দাবি আমাদের।
আরপিননগরের মৎস্যজীবী সুবেল মিয়া বলেন, ব্রাহ্মণগাঁও সুরমা নদীর অভয়াশ্রম থেকে দিনে ও রাতে চুরি করে অনেকে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করে। মাছ শিকারীর একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। এদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।
রামনগর গ্রামের মৎস্যজীবী বাচ্চু মিয়া বলেন, অভয়াশ্রমে মাছের লোভ সামাল দিতে না পেরে কতিপয় অমৎস্যজীবী দিনে ও রাতের বেলায় চুরি করে মাছ শিকার করে। অভয়াশ্রমের যথাযথ সংরক্ষণ জরুরি প্রয়োজন।
জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. আলাউর রহমান বলেন, জেলার মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুরমা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। এখন এই অভয়াশ্রমের মাছ শিকার করে এক শ্রেণীর লোভী জেলে। এদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।
সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত দে বলেন, অভয়াশ্রমে অবৈধভাবে মাছ শিকার হয় এমন খবর পেয়ে আমরা মঙ্গলবার ব্রাহ্মণগাঁও অভয়াশ্রম এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি। এ সময় একজন জেলে সহ অবৈধ জাল আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


