নয়াহালট-চানপুর সেতুর এপ্রোচে ধস

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জ উপজেলাবাসীর যোগাযোগের প্রধান সড়ক জামালগঞ্জ মন্নানঘাট ভায়া গজারিয়া সড়কের নয়াহালট-চানপুর সেতুর এপ্রোচ ধসে পড়েছে। এতে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। গত ৪ দিনের ভারি বর্ষণে এমন গর্ত হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর ২ পাশে নির্মিত এপ্রোচ সড়কে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের পাশের গাইড ওয়ালের ব্লক সরে যাওয়ায় মাটি ধসে গেছে। গত বছরের বন্যায় সেতুর একপাশে বড় গর্ত হয়েছিল। সেসময় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাঁশ ও ড্রামের পাত দিয়ে মাটি ফেলে গর্তটি কোন রকম বন্ধ করে সড়কে চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছিল। কিন্তু এক নাগাড়ে গত ৪ দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কের দুই পাশে আবারও বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। দ্রুত এই গর্ত দুইটি বন্ধ না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি অংশ ভেঙে জামালগঞ্জ-মন্নানঘাট সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এই সড়কে প্রতিদিন শতশত সিএনজি, অটোরিক্সা ও মোটর সাইকেল চলাচল করে। নেত্রকোনা, মোহনগঞ্জ ও ধর্মপাশা এবং উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের জামালগঞ্জ ও জেলা শহর সুনামগঞ্জে চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি।
জামালগঞ্জের মোটর শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, সেতুটি প্রতি বছর এভাবেই সামান্য বৃষ্টি হলে ধসে পড়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। এরপর দায়সারা ভাবে কাজ করা হয়। এতে সরকারের অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। ব্লক দিয়ে ভালোভাবে মেরামত করলে বারবার ধসে পড়তো না। আমাদের প্রায় শতাধিক মোটর সাইকেল চালক এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। রাস্তা দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের শতাধিক পরিবার পথে বসবে।
মন্নানঘাটের ব্যবসায়ী ও কৃষক ইয়ার আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আমাদের এলাকার উৎপাদিত ফসল মিনি ট্রাকে সিলেট এবং ঢাকায় যায়। রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হলে এই এলাকার সবজি চাষীদের ফসল জমিতেই পচবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর সড়ক ভাঙে একটু একটু করে করে। বর্ষা আসলে বলে হেমন্তে কাজ করা হবে, হেমন্ত আসলে কাজের কোন খবর থাকে না। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী বিভিন্ন কাজে অফিস আদালতে যাতায়াত করে থাকে। অথচ গুরত্বপূর্ণ রাস্তার কাজ না করে যেখানে সেখানে প্রকল্প দিয়ে পকেট ভারী করা হয়।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল হুদা বলেন, প্রতি বছরই সেতুর এপ্রোচের মাটি সরে যায়। ড্রামের পাত ও বাঁশের আড় দিয়ে গর্তে মাটি ফেলা হয়। এভাবে অল্প অল্প কাজ না করে ব্লক দিয়ে একেবারে ভালোভাবে কাজ করলে বার বার এই ভাবে গর্ত হতো না। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অফিস আদালত ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে থাকে। উপজেলার কৃষি পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি- অতিদ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে দেওয়ার জন্য। নতুবা অচিরেই সেতুটির এপ্রোচের বাকী মাটি সরে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. মালেক মিয়া বলেন, গতকাল উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও স্যার সহ আমি সরজমিনে গিয়ে সেতুটি পরিদর্শন করে এসেছি। স্যারের নির্দেশে উপজেলা পরিষদ থেকে আপাতত কাজ করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্ষার শেষে স্থায়ী ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।