স্টাফ রিপোর্টার
গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো এক মাস আগে নতুন করে মেরামত কাজ শেষ করেছে সুনামগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক বিভাগ। পৌরবাসীর আশা ছিল এবার তারা স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারবেন। কিন্তু তাদের সেই আশায় গুড়েবালি। সড়ক ও ফুটপাত উন্নত হলেও বিভিন্ন জায়গায় সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
পৌর শহরের আব্দুজ জহুর সেতুর সংলগ্ন সড়কের দুই পাশ থেকে ইকবালনগর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন মানুষজন। বাস মালিকরা বলছেন, গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় সড়কের দুই পাশে গাড়ি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর স্থানীয় এলাকাবাসী ও পথচারীরা অবৈধ পার্কিং বন্ধ করার জন্য দ্রুত উদ্যোগ নিতে এবং যানজট থেকে তাদের মুক্তি দিতে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ পৌর শহরে আব্দুজ জহুর সেতু সংলগ্ন সড়কের দুই পাশ থেকে শুরু করে ওয়েজখালি, ইকবালনগর সহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়েছে। সড়কই এখন যানবাহনের স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। দুই পাশে শতাধিক গাড়ি রাখায় সড়ক সরু হয়ে গেছে। অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে দিনের বেশির ভাগ সময় এখানে যানজট লেগে থাকে। এতে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। এতে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসী এবং শহরে আসা মানুষজনকে।
শহরের টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে পড়েন মল্লিকপুরের বাসিন্দা শিক্ষার্থী মাহদি হাসান ইমু। তিনি আব্দুজ জহুর সেতু সংলগ্ন সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে বৈঠাখালি সড়কের পাশে গিয়ে অটো রিক্সা বা সিএনজিতে উঠে স্কুলে যাওয়া আসা করেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় দিনের বেলায় সবচেয়ে বেশি জ্যাম থাকে। সকালে যখন স্কুলে যাই, তখন খুব ভয় হয়। গাড়ি পার্কিং করে রাখায় সড়ক সরু হয়ে গেছে। এরমধ্যে দিয়ে চলাচল করে অটোরিক্সা, সিএনজি সহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
মল্লিকপুর এলাকার গাড়ি মেকানিক আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কের পাশে গাড়ি রাখা নিষেধ, এরপরও রাখে। এতে করে আমাদের নানান সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়, আমাদের চলাচলে খুব ভোগান্তি হয়। তাছাড়া সেতুর পাশ ভেঙে যাচ্ছে, সড়কও নষ্ট হচ্ছে।
একই এলাকার গাড়ি মেকানিক মো. মেহের আলম রিপন বলেন, সড়কের পাশে গাড়িগুলো রাখায় মানুষের চলাচলে অসুবিধা হয়। এতে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেকেই। গাড়ি নষ্ট হয়েছে, ব্রীজের সোল্ডার (রেলিং) ভেঙে গেছে। এছাড়াও সেতুর দুই পাশে গাড়ি রাখায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি দিনদিন বেড়েই চলেছে।
মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা অপু মিয়া বলেন, আব্দুজ জহুর সেতু সংলগ্ন সড়কের পাশে গাড়ি রাখায় এলাকার শিক্ষার্থী সহ জনসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গাড়ি রাখায় সড়ক একেবারে সরু হয়ে গেছে, যান চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে আশা করছি।
সুনামগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি সুজাউল কবির বলেন, আমাদের কোনো বাস স্টেশন নেই। এজন্য গাড়ি রাখার জায়গাও নেই। মল্লিকপুর বাস স্টেশনে লোকাল বাসগুলো রাখা হয়। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আমাদের বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে ঢাকাগামী বাসগুলো রাখতে হচ্ছে।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মুহিবুল ইসলাম বলেন, বাস স্টেশনে গাড়ি রাখার পর্যাপ্ত পরিমাণে জায়গা না থাকায় সড়কের পাশেই গাড়িগুলো রাখছে তারা। জনসাধারণের সুবিধার জন্য গাড়িগুলো সেখান থেকে সরানোর ব্যবস্থা করবো আমরা।
জেলার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রাং বলেন, শীঘ্রই এই অবস্থা নিরসনে পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিষয়টি দেখার জন্য আমাদের একজন ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠাবো। তিনি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন। এছাড়াও যারা সড়কের উপর গাড়ি রাখছেন তাদেরকেও নিষেধ করা হবে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত বলেন, আব্দুজ জহুর সেতু সংলগ্ন সড়কের দুই পাশ হচ্ছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের। তারপরও পৌরবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।


