স্টাফ রিপোর্টার
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় পণতীর্থে বারুণী মেলা ও গঙ্গাস্নান এবং শাহ আরেফিনের ওরস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেন’এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, ২৮ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাকসুদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস, বিটিভি’র জেলা প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে, রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, ইমাম মোয়াজ্জিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা দিলোয়ার হোসাইন, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান রায়, সাধারণ সম্পাদক বিমল বনিক, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, পণতীর্থ পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্মৃতি রতœ দাস, অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অদ্বৈত রায়, শাহ আরেফিন আস্তানার সহ-সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন, বাদাঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।
সভায় জানানো হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে গণজমায়েত’এর উপর সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই অবস্থায় ২১ থেকে ২৪ মার্চ শাহ্ আরেফিন (র.) ওরস এবং পণতীর্থের গঙ্গা¯œান হবে না এবার। এই বিষয়টি স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের প্রচার করারও দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সভায় জেলার সকল প্রকার ধর্মীয় গণজমায়েত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও
কোন প্রবাসী ব্যক্তি এলাকায় পদার্পণ করলে সাথে সাথে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে তাৎক্ষণিক অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এসময় কারো যদি জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট পরিলক্ষিত হয় তাহলে তাদেরকে ধর্মীয় উপাসনালয়ে না আসার অনুরোধ করা হয়।
প্রসঙ্গত. চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীতে ¯œান করলে গঙ্গা¯œানের সমতুল্য হয়। এই বিশ^াসে প্রায় ৫০০ শ’ বছর পূর্ব থেকেই এই সময়ে এখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ পাশর্^বর্তী দেশ ভারত থেকেও এখানে লাখো পূন্যার্থী ¯œান সারতে আসেন। এসময় যাদুকাটার পাড়ের অদ্বৈত প্রভুর মন্দিরে এবং ওপারের ইসকন মন্দিরে কীর্তন এবং মন্দির প্রাঙ্গণে মেলা বসে। একই সময়ে অদ্বৈত মন্দিরের ৩ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী লাউড়েরগড়ে শাহ্ আরেফিন (র.) ওরস বসে। ওখানেও হাজার হাজার আরেফিন (র.) ভক্তরা সমবেত হন।


