স্টাফ রিপোর্টার
চেয়ারম্যান পদে ভোট না দেয়ার অপরাধে দরিদ্র লোকদের ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের চাল না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জগলুল হায়দারের বিরুদ্ধে। একইসাথে নিজের কর্মী-সমর্থক, আত্মীয় স্বজনদের একেক জনকে একাধিক বরাদ্দ দেয়ারও অভিযোগ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও বর্তমান ইউপি সদস্যা। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করেছেন চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার।
জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে সরকারিভাবে দরিদ্র লোকজনদের প্রতিজনকে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তালিকা করে এসব চাল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটিকর্পোরেশন থেকে বিতরণ করা হয়। কিন্তু গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পশ্চিম পাগলা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার নৌকা প্রতীকে পরাজিত হয়ে ভোটারদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ভিজিএফের চাল দিতে অনেককে বঞ্চিত ও কোন কোন ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা অবলা রানী দাস শনিবার বিকালে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘আমি এখনও পরিষদের সদস্য। কিন্তু চেয়ারম্যান সাব আমার কোন কথাই শুনছেন না। তাঁকে ভোট না দেয়ার অজুহাত এনে আমার দেয়া তালিকা অনুযায়ী ব্রাহ্মনগাঁও গ্রামের দরিদ্র লোকজনকে ভিজিএফের চাল দিচ্ছেন না তিনি। নিজের পছন্দের লোকজনকে চাল দিচ্ছেন। চাল না দেয়ার বিষয়টি আমি ইউএনও স্যারকে অবগত করেছি। কিন্তু তিনি ঈদের পর দেখবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া চেয়ারম্যান সাবের এই বিষয়টি আমি এলাকার লোকজন ও নতুন চেয়ারম্যান সাবকে জানিয়েছি। ’
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান নূরুল হক বলেন,‘ঈদ উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যানের এসব কর্মকান্ড খুবই দুঃখজনক। দুইজন ইউপি সদস্যসহ এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন, তাকে ভোট না দেয়ার কারণে দরিদ্রদের চাল দিচ্ছেন না তিনি। ইউপি সদস্যরা আমাকে বিষয়টি অবগত করেছেন। নিজের নেতাকর্মী ও আত্মীয় স্বজনকে ২০ কেজির স্থলে ৫০-১০০ কেজি পর্যন্ত বিতরণ করেছেন। আমি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন ঈদের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। ’
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার বলেন,‘ আমার আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কেউ ভিক্ষুক নয়। আমি কোন সময়ই এসব বরাদ্দ নিজে বণ্টন বা নিজের আত্মীয় স্বজনকে দেয়ার চেষ্টা করিনি। ওই ইউপি সদস্যা সব সময় সরকারি বরাদ্দের সম্পদ নিজে নিয়েছেন। এবার নিজে চাল নিতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছেন। এলাকার গণ্যমান্য লোকজন, সকল ইউপি সদস্য ও সচিব মিলে ভিজিএফের চাল বিতরণ করেছেন। চাল বিতরণে কোন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়নি। আমি আমার কোন কর্মী সমর্থককে এসব চাল দেইনি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবাদত হোসেন বলেন,‘ নির্বাচনের পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজ করছেন সচিবরা। চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সচিবের নামে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল বিতরণের অনিমের অভিযোগ আনা সঠিক হবে না। তবে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে অনিয়ম হচ্ছে এধরনের অভিযোগ নিয়ে শুক্রবার বেশকিছু লোক আমার কাছে এসেছিলেন। আমি চেয়ারম্যান সাহেবকে বলে দিয়েছি যারা এসেছিলেন সবাইকে চাল দিয়ে দিতে। ঈদের পর বিষয়টির খোঁজ খবর নেয়া হবে।’
পশ্চিম পাগলা ইউপি সচিব আলী হোসেন বলেন,‘চাল বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি। পরিষদের সদস্যগণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন সবকিছুই সমন্বয় করেছেন। ইউপি সদস্যা অবলা রানী দাস নিজেই সবকিছু নিতে চান। তার পরিবারের সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। এবার সেই সুযোগ না পেয়ে এবং ভিজিএফের কার্ড নিজে বণ্টন করতে না পেরে এসব মিথ্যা কথা বলছেন।’


