আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
সুনামগঞ্জ করোনাভাইরাসের কারণে শ্রমিক সংকট, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের| জগন্নাথপুর উপজেলায় কৃষকরা জমিতে পাকা ধান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার নলুয়ার হাওর ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে এমন শঙ্কার কথা জানা গেছে।
কৃষকরা জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি কৃষকদের পাকাধানের ক্ষতি হয়। শুক্রবার সকালে কৃষকরা হাওরে গিয়ে দেখেন অনেক জমির পাকা ধান ঝড়ে গেছে।
নলুয়ার হাওরের কথা হয় ভুরাখালি গ্রামের কৃষক মাসুক মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান ,গতরাতে কালবৈশাখী ঝড়ে তার পাকা এক কেদার জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এক কেদার জমি কেটে তিনি মাত্র ৫ মণ ধান পেয়েছেন বলে জানান। তার মতে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ফলন ঝড়ে না গেলে এক কেদার জমি থেকে ১০ মন ধান পেতেন।
হাওরে ভূরাখালি গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতের কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে হালকা শিলাবৃষ্টির কারণে কিছু জমির পাকা ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, করোনাভাইরাসের কারণে কৃষি শ্রমিক না আসায় আমরা পাকা ফসল কাটতে পারছি না।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা নির্মল দাস জানান,হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল পাকতে শুরু করেছে।করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে অন্য জেলা থেকে কৃষি শ্রমিকরা না আসায় কৃষকরা পাকাধান নিয়ে চিন্তিত। এছাড়াও কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি কৃষকদের শঙ্কায় ফেলেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে প্রতি বছরের মতো এবার অন্য জেলার কৃষি শ্রমিক না আাসায় পাক ধান নিয়ে অনেক কৃষক দুশ্চিন্তায় আছেন। এছাড়াও কালবৈশাখী ঝড়,আগাম বন্যা,শিলাবৃষ্টি সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়েয় চিন্তায় কৃষকরা চিন্তিত। বৃহস্পতিবার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে যৎসামান্য ক্ষতি হয়েছে। তিনি ধানপাকার সাথে সাথে কেটে ফেলতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান।


