পাগলা-জগন্নাথপুর সড়কের বেহাল দশা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
পাগলা-জগন্নাথপুর সড়ক ভেঙ্গে বেহাল দশা হয়েছে। ২২ কিলোমিটার দূরত্বসীমার এ রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশই ভেঙ্গে এমন গর্ত তৈরি হয়েছে, যা ছোট বড় সড়ক দুর্ঘটনার জন্য পেতে রাখা ফাঁদ বললেও ভুল হবে না। এই রাস্তা দিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার সম্পূর্ণ অংশ ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দরগাপাশা, পূর্ব বীরগাঁওয়ের সলফ অংশের লাখ লাখ মানুষের জেলা সদরের সাথে সংযোগ। প্রতিদিনই এই রাস্তায় চলাচলকারী দুই উপজেলার হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কষ্টের সীমা থাকছে না অসুস্থ্য মানুষের, গাড়ি ব্যবসায়ীরা এ রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে আছেন দুশ্চিন্তায়, সাচ্ছ এ নিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাস্তার এমন বেহাল দৃশ্য। প্রতিটি গাড়ি খুব ধীরে ধীরে বলতে গেলে থেমে থেমে ভাঙ্গা রাস্তার বৈতরণী পার হচ্ছে। পাগলা বাজার থেকে সীচনি এলাকা পর্যন্ত রাস্তার তেমন কোনো ভাঙ্গা অংশ না পেলেও মূলত সীচনি গ্রামের শুরু থেকেই ভাঙ্গা অংশ শুরু। সীচনির সেতুতে উঠার আগ পর্যন্ত কমপক্ষে প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক ভেঙ্গে গর্ত তৈরি হয়েছে। আক্তাপাড়া (মিনাবাজার)-এ প্রবেশের আগে লেউনী ব্রিজ বা স্টিলের সরু সেতুর আগ পর্যন্ত ভাঙ্গা অংশ দেখলে বুঝার ক্ষমতা নেই যে, এই রাস্তা একটি আঞ্চলিক সংযোগ সড়ক। দরগাপাশা এলাকার বেশ কিছু ভাঙ্গা অংশে গাড়ি আটকে যাওয়ার কারণে স্থানীয় সওজ কতৃপক্ষ ইটের আস্তটুকরা গর্তে ফেলে রেখেছে। কিন্তু ফলের ফল কিছুই হচ্ছে না, উঠে যাচ্ছে এসব ইটের টুকরা। ছয়হাড়ার পয়েন্ট পর্যন্ত সওজের ইটের জোড়াতালি দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আবার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ভমবমি বাজার পয়েন্টে প্রবেশের আগের ভাঙ্গা অংশ মনে ভয় জাগিয়ে তুলে। ছয়হাড়া থেকে কচুয়া, দাঁড়াখাই ও শক্তিরগাঁও এলাকায় ভাঙ্গা অংশের জন্য এ রাস্তায় চলাফেরায় অনিহায় জন্মাচ্ছে জনমনে। কিন্তু চলাচলের একমাত্র রাস্তা হওয়ায় দুর্ভোগ মাথায় নিয়েও চলতে হচ্ছে দুই উপজেলার মানুষকে।
জাহাঙ্গীর আলী নামের এক সিএনজি চালক ও আল আমীন নামের আরেক লেগুনা চালক বলেন, ‘আমাদের ভাই এমনিতেই ছোট গাড়ি। রাস্তার যে দশা তাতে কখন যেনো আমাদের গাড়ি উল্টে রাস্তার পাশে পড়ে যায় সেই চিন্তায় থাকি সব সময়। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই দ্রুত এ রাস্তার সংস্কার করা হোক। তা না হলে শ্রমিকরা রাস্তা মেরামতের দাবীতে আন্দোলনে নামবো।’ নন্দ বাবু নামের আরেক বাস চালকও এতো ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচলে কষ্ট হয় বলে জানিয়েছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বাংলাবাজার এলাকার জুঁই তালুকদার নামের এক কলেজ ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা এই রাস্তা মেরামতের দাবী কি করতে পারি না?
হরিনগর গ্রামের আবদুর রহমান জামী নামের এক সংগঠক বলেন, ‘এ রাস্তার জন্য আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। সরকারের কাছে আবেদন, সরকার যেনো এ রাস্তাটির স্থায়ী সংস্কার করার পদক্ষেপ নেন। সওজের ফেলে যাওয়া ইট উঠে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।’
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে কয়েকবার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি না ধরায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
উপ-সহকারী প্রৌকশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পাগলা থেকে ডাবর পয়েন্ট হয়ে যে রাস্তা আছে সেটার ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে এবং ওয়ার্ক ওর্ডারও হয়েছে। জগন্নাথপুর পৌরসভার ভিতরের কাজ করছি। রাস্তায়ও কিছু সংস্কার কাজ হচ্ছে। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’