আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জগন্নাথপুর উপজেলার ২নং পাটলী ইউনিয়নে নির্বাচনী পরিবেশ জমে উঠছে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয় তোড়জোড়। এরইমধ্যে অনেকে উঠান বৈঠক করে এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশাপাশি ওয়ার্ডে, ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারে নামছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই মাঠে অবস্থান গড়ে তোলতে তৎপরতা দেখা দিয়েছে প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে। এই ইউনিয়নে প্রবাসী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। ফলে নির্বাচনী এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠেছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটলী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৬ জনের নাম শুনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিরাজুল হক, ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আঙ্গুর মিয়া, সাবেক ছাত্রনেতা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আব্দুল কাহার রাসেল, যুক্তরাজ্য প্রবাসী রিয়াদুল ইসলাম আনসার ও উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ফজরুল ইসলাম। এই ছয়জনই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি। এখানে বিএনপি কিংবা স্বতন্ত্র কোন প্রার্থীর নাম এখনও শুনা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, অনেকদিন ধরে ইউনিয়ন নির্বাচনকে ঘিরে এ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তৎপরতা দেখা দেয়। গত বুধবার নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে শুরু হয় প্রার্থীদের মধ্যে দৌঁড় ঝাঁপ। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত নারী সদস্যে পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও প্রচারে রয়েছেন।
এদিকে নৌকার মাঝি হতে ব্যাপক তৎপর হয়ে ওঠেছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশিরা। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চলছে তববির এবং জোর লবিং। ইতিমধ্যে তৃণমূল আওয়ামী লীগের সভা থেকে প্রস্তাবিত দলীয় ছয়জন প্রার্থীর নাম উপজেলা আওয়ামী লীগের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশি ঢাকায় অবস্থান করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবলীগ নেতা জানান, এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। অন্য দলের কিংবা স্বতন্ত্র কোন প্রার্থী না থাকায় আভাস মিলছে, আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন বলেন, তৃণমূল থেকে প্রস্তাবিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা আমরা জেলা কমিটির নিকট হস্তান্তর করবো।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামী ২৫ নভেম্বর, মনোনয়ন বাছাই ২৯ নভেম্বর, প্রত্যাহার ৬ ডিসেম্বর এবং আর প্রতীক বরাদ্দ ৭ ডিসেম্বর।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে মে মাসে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিরাজুল হক নির্বাচিত হন এই ইউনিয়নে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আঙ্গুর মিয়া।
- ছাতকে নদীতে পড়ে শ্রমিক নিখোঁজ, ৫ ঘন্টা পর লাশ উদ্ধার
- অবৈধ ট্রলি ও পাথর উত্তোলনের বেল্টে অতিষ্ঠ মইনপুরবাসী


