পান্ডারখালের মতো বাঁধ হলে কৃষকরা শান্তি পাবে -কামরুজ্জামান

লিপসন আহমেদ
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বন বিভাগের কর্মকর্তাকে অনুরোধ করে বলছি সুনামগঞ্জে গাছ নেই কিন্তু সম্ভাবনা আছে। সম্ভবনার কথাটা যদি আমরা ধরি তাহলে আপনি দেখবেন দোয়ারাবাজার উপজেলায় পান্ডার খাল বাঁধ আছে, ১৯৭৩ সালে প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী তখনকার কৃষিমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ এটি তৈরি করেছিলেন। বাঁধটি তৈরি হয়েছিল মরা সুরমা নদীর উপর।  বাঁধে তিনি প্রচুর সেগুন গাছ লাগিয়ে ছিলেন। সেই সেগুন গাছ লাগানোতে এখন পর্যন্ত বাঁধটির কোন ক্ষতি হয়নি, প্রায় ৪৪ বছর হয়ে গেছে। কিন্ত আমাদের হাওর রক্ষা বাঁধ নিয়ে কত কেলেংকারী হয়ে গেল তা সবার মনে আছে। আমাদের সুনামগঞ্জের হাওর পাড়ের মানুষের ঘরে এখন একমুঠো চালও নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বাঁধগুলো হয় বালির বাঁধের মত, প্রাকৃতির অবস্থা খারাপ হলে এই বাঁধগুলো ভেঙে যায়। আর এই বাঁধগুলোতে যদি আমাদের বন বিভাগের উদ্যোগে পান্ডারখাল বাঁধের মত বড় করে করা যায়, আর সেখানে যদি প্রচুর হিজল গাছ লাগানো যায় তাহলে বাঁধটাও ভাঙ্গবে না, গাছ হবে, অক্সিজেন পাওয়া যাবে, জ্বালানীও পাওয়া যাবে এমন কি মাছের খাবারও হবে। তাহলে এই বিষয়ে আমরা উদ্যেগ নিচ্ছি না কেন। পান্ডার খাল বাঁধের মত যদি  বড় বাঁধ হয় তাহলে কৃষকরা শান্তি পাবে।’
শনিবার দুপুর ১২ টায় শহরের আবুল হোসেন মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বৃক্ষরোপণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুজ্জামান এসব কথা বলেন।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস.এম মুনিরুল ইসলামের সভাপতিতে¦ ও উপজেলা কৃষি অফিসার সালাহ উদ্দিন টিপুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহেদুল হক, হাবিবুর রহমান, সরকারি জুবলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুল হক মোল্লা প্রমুখ।
আলোচনা সভার আগে আবুল হোসেন মিনলায়তন থেকে একটি র‌্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে গিয়ে শেষ হয়।