বিশেষ প্রতিনিধি
‘ঘরও কোমর সমান পানি আছিল, আজকে খালি নামছে, ঔ লইয়া ১৮ দিনের মাঝে ২ বার পানি ওঠছে, পালার (খুঁটি) গুড়ি পচিগেছে, ঘর টিকানি মশকিল, দক্ষিণ দিকে পড়িযার ঘর।’
জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের লাল মোহন রায় ও সাবিত্রি রায় এভাবে নিজেদের বসত ঘর নিয়ে দুর্ভোগের কথা বর্ণনা করে জানালেন, গত বন্যায় (২৮ জুনে আসা পানিতে) ঘরে হাটু সমান পানি ছিল। এবার ঘরে ওঠেছে কোমর সমান পানি। ঘরের ভেতরেই চৌকির উপরে শুয়েছেন, রান্নাও করেছেন। বন্যার পানিতে ঘরের বাঁশের পালা পচে গেছে। দক্ষিণ দিকে ঘরটি হেলে পড়ে যাচ্ছে। বাঁশ কেনার কোন টাকাও এখন হাতে নেই। ঘর পড়ে গেলে যাবেন কোথায়, এই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
এই গ্রামে ১১০ টি বাড়ি রয়েছে। এরমধ্যে অনিত রায়, প্রজেশ দেসহ ২৫ পরিবারেরই এখন যুদ্ধ হেলে পড়া ঘর রক্ষা করা। জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁও গ্রামের লাল শাহ্ একই দুর্ভোগের কথা জানালেন। বললেন, ঘরে কোমর সমান পানি, পানি কমতে শুরু হয়েছে, ঘরটিও একদিকে হেলতে শুরু হয়েছে, বাঁশের পালা হয়তো পচে গেছে, ঘরটি পড়ে যাবে। তার গ্রামের আরও কয়েক পরিবার এমন
দুর্ভোগে রয়েছে বলে জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ শহরতলিসহ হাওরপাড়ের অনেক ঘরবাড়ির এমন চিত্র এখন। বন্যা কমতে শুরু হলেও নানা দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যা কবলিতরা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানালেন, তাদের কাছে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১০০০ বান্ডিল টিন এসেছে। বন্যার পানি নামলে গৃহ নির্মাণের জন্য বন্যার্ত অস্বচ্ছলদের মধ্যে টিন বিতরণ করবেন তারা।
- শহরের দুই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
- ধর্মপাশায় বন্যার্তদের মাঝে এমপি শামীমা শাহরিয়ারের ত্রাণ সহায়তা বিতরণ


