পাশবিক নারী নির্যাতন- দোয়ারাবাজারে পরিবারের ৬ জনকে অজ্ঞান করে প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

বিন্দু তালুকদার
দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের পল্লীতে সৌদী প্রবাসী এক পরিবারের ৬ জনকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার লুটপাট ও বাড়ীর গৃহিনীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অজ্ঞান হওয়া ৬ সদস্যকেই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার জালালপুরে গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল হাসিমের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ডাক্তাররা বলেছেন, ‘প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। ধর্ষণ করা হয়েছে কী-না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে’। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে প্রবাসীর ভাতিজা গুলজার হোসেন (৩৫) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রবাসীর ভাই নাছির উদ্দিন বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১১ টায় প্রবাসী’র স্ত্রী’র ধর্মীয় আত্মীয় পরিচয়ে বাড়িতে বেড়াতে আসেন এক যুবক। ঐ যুবক মিষ্টি, রসমালাই ও জুস সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। রাতে মিষ্টি, জুস পরিবারের সকলকে খেতে দেওয়া হয়। এর ১০-১৫ মিনিট পর আমরা ঘুমিয়ে পড়ি, এরপর কিছুই বলতে পারি না’। নাছির জানান, আত্মীয় পরিচয়ে রাতে বাড়িতে রাত যাপনকারী ঐ যুবককে সকালে আর পাওয়া যায়নি। প্রবাসী আব্দুল হাসিমের ৭ম শ্রেণি পড়–য়া ছেলে রাব্বিও একই কথা জানায়। রাব্বি জানায়, আত্মীয় ঐ যুবকই মিষ্টি, জুসসহ নানা খাবার এনেছিলো এবং তার মায়ের নির্দেশে তাকে (ঐ যুবককে) মামা ডেকেছে তারা। সে জানিয়েছে, ঐ যুবকের বাড়ি টেংরাটিলা।
শুক্রবার সকালে অসুস্থ অবস্থায় (অজ্ঞান) প্রবাসীর স্ত্রী (৩৫), তার ছেলে স্কুল ছাত্র মারুফ (১৭), রাব্বি মিয়া, (১৩) ও  মহিম    মিয়া (১০), দেবর নাছির মিয়া (২৮) ও ননদের জামাই আব্দুল লতিফ (৪৫)সহ অজ্ঞান ৬ জনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রবাসীর স্ত্রী বলেন,‘আমরার আত্মীয় মিনার উদ্দিন টিউবেল মার্কায় ইলেকশন করছইন। গাউয়ের সাব্বির মিয়া দাড়াঁইছিল ঘুড্ডিত। আমরা মিনার মিয়ার টিউবেল মার্কায় ভোট দিছি। ইতার লাগি সাব্বির মিয়া, গুলজার, আখতারুল আরো ২-৩ জন আমার গলাত গামছা গিয়া ফাঁস লাগাইয়া আমারে মারতে চাইছিল। আমি তারার পাও ধরছি, কিন্তু তারা হুনছে না। আমারে মারধর করছে ও নির্যাতন করছে। পরে আর কইতাম পারি না।’ রাতে আত্মীয় পরিচয়ে বাড়িতে থাকা যুবকের পরিচয় জানতে চাইলে ঐ গৃহিনী জানান, ঐ যুবকের নাম আরিফ, বাড়ি-সুনামগঞ্জ শহরে। এর বেশি তিনিও তার ঠিকানা জানেন না।
প্রবাসীর ছোট ভাই আব্দুল জব্বার বলেন,‘শুক্রবার সকালে বড় ভাইয়ের ঘরের দরজা বন্ধ দেখে অনেক ডাকাডাকির পর পেছনের দরজা খোলা পেয়ে ঢুকে দেখি সবাই অজ্ঞান। ভাবীর গলায় একটা গামছা বাঁধা পাই। পরে সবাইকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। ঘরের সকল আলমিরা ভাঙ্গা পাওয়া গেছে। ভাবির শরীরের কোন অলংকার পাওয়া যায়নি। কি ঘটেছে তা আমি ভাল করে জানি না। ভাবি-ই সবকিছু বলতে পারবেন।’
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য প্রার্থী সাব্বির আহমদ দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ করা হচ্ছে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর আমি কাউকে কিছু বলিনি। সবাই ভোট দিয়েছে বলে আমি বলেছি। প্রবাসী আব্দুল হাসিমের বাড়ির ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই।’
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘প্রবাসীর স্ত্রীকে সকালে ভর্তি করার সময় তিনি মানসিক ভাবে কিছুটা বিপর্যস্থ ছিলেন, তার গলায় শাশ্বরূদ্ধ করার চিহ্ন ছিল, ঠোটে এবং মুখে আঘাত ছিল, শান্ত থাকতে এবং বিশ্রাম নেবার জন্য ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগ করায় এবং প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সন্দেহের মধ্যে থাকায় এ বিষয়ে ডাক্তারী পরীক্ষা করা হচ্ছে’।
দোয়ারাবাজার থানার ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আখঞ্জি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সবাইকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করা হয়েছে। অন্যদের জ্ঞান ফিরলেও প্রবাসীর স্ত্রীর জ্ঞান ভালভাবে ফিরেনি, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জড়িত সন্দেহে গুলজার হোসেন নামের ১ জনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।