আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে আমন ধানের রোপিত চারার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পাহাড়ি ঢলে মঙ্গলকাটা বাজার সংলগ্ন দলাই নদীর পাড় ভেঙে বিভিন্ন এলাকার ধানের চারার ক্ষতি হয়। একই সাথে ঢলের পানি ও ভারী বৃষ্টিপাতে সবজি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান একাধিক কৃষক।
ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের রোপিত আমন ধানের চারা ও জমিতে লাগানো চারা এবং স্তুপ করে রাখা ধানের চারা নষ্ট হয়েছে ঢলের পানিতে। ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে এবং জমিতে বালু পড়ে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে ধানের চারার। একই সাথে আগাম মওসুমের লাউ, জালী কুমড়া, করলা, কাকরুল, সীম, লাল শাক, জিঙ্গা, মূলা শাক, ধনেপাতা ইত্যাদি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজারের পাশের দলাই নদীর পাড় ভেঙে বাজার, যাতায়াত সড়ক, ঘরবাড়ি, সবজি ফসল ও আমন ধানের চারার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ওইদিন মঙ্গলকাটা গ্রাম, দলাইপাড়, নুরুজপুর, কামারগাঁও, জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অপরদিকে, আমপারা, গোদীগাঁও, ঘাসীগাঁও, রাজানগর ইত্যাদি গ্রামের নিচু এলাকা প্লাবিত হয় বৃষ্টির পানিতে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় গ্রামীণ যাতায়াত সড়ক, ঘর-বাড়ির আঙিনা ও সবজি ফসল এবং আমন ধানের চারা মারাত্মক ক্ষতি হয়।
ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লিলু মিয়া ও ছত্তার মিয়া বলেন, মঙ্গলকাটা বাজারের পাশে দলাই নদীর পাড় ভেঙে ঢলের পানিতে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এই সময় আমন ধানের জমিতে বালু পড়ে অনেক চারা নষ্ট হয়ে যায়।
হান্নান মিয়া, হাসিম মিয়া বলেন, ঢলের পানির বেগে ধানের চারার যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি সবজি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক মতিন মিয়া বলেন, পানি আসবে না, ঢলও আসবে না এমন ধারণা ছিল আমাদের। তাই আমরা সবজিও লাগিয়েছি এবং আমন ধানের চারাও রোপন করেছি জমিতে। কিন্তু হঠাৎ গত মঙ্গলবার সকাল ৭ টায় দলাই নদীর পাড় ভেঙে ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। নিমিষেই তলিয়ে যায় বিভিন্ন এলাকা। এতেই ক্ষতি হয় বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমির।
কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, এবার ফসলের এমন ক্ষতি হবে ধারণাই ছিল না। যে সময় ঢল আসার কথা, সেই সময় না এসে বর্ষার শেষ পর্যায়ে আসলো। ক্ষতি হলো ফসলি জমির। যদি দ্রুত পানি কমে যায়, তবে ক্ষতির পরিমাণ একটু কম হবে।
কৃষক আব্দুল মন্নান বলেন, দলাই নদীর পাড় বর্ষায় একাধিক বার ভেঙে এলাকার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবারও ক্ষতি হলো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালিব বলেন, আমাদের এলাকায় বিভিন্ন স্থানে আমন ধানের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেই সাথে ভারী বৃষ্টিপাতে সবজি ফসলেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলকাটা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রব বলেন, পাহাড়ি ঢলে বাজার, রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, আমন ধানের চারা ও আগাম মওসুমের সবজি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে রোপিত আমন ধানের চারার বেশ ক্ষতি হয়েছে। একই সাথে ভারী বৃষ্টিপাতে আগাম মওসুমের সবজি ফলেরও ক্ষতি হয়েছে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটা কমে আসবে।


