লোকবল সংকটে পেছাতে পারে আইসিইউ সেবা

বিশেষ প্রতিনিধি
লোকবল সংকটের কারণে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং উচ্চ মাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্বিত হতে পারে। বুধবার অক্সিজেন প্লান্টের ট্যাংক স্থাপন হলেও লোকবল নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরাও। করোনা পরিস্থিতির এমন ক্রান্তিকালে জেলা সদরের ২৫০ শয্যার হাসপাতালে দ্রুত আইসিইউ সেবা চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের পুরাতন ভবনের পেছনে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয় প্রায় ৫ মাস আগে। নির্মাণ কাজ করছে রাজধানী ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইন্টার ন্যাশনাল। নির্মাণ শেষে হাসপাতালের তত্বাবধায়ককে ৩০ জুন প্লান্ট সমঝে দেবার কথা ছিল । ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্লান্ট সমঝে দিতে পারে নি। এই প্লান্ট থেকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ভবনের সকল কেবিন, করোনা ইউনিটের ওয়ার্ড ও কক্ষে, করোনা ইউনিটের আইসিইউ কক্ষসহ প্রায় ৩০০ পয়েন্টে অক্সিজেন সরবরাহ করার কথা। ইতিমধ্যে ১৬৮ টি অক্সিজেন সাপ্লাই পয়েন্ট করার কাজও শেষ করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বুধবার লিকুইড প্লান্টের ট্যাংকিও বসানো হয়েছে। ম্যানুপুলেট ভবনের কাজও চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন নিলে এবং স্থাপনার কাজ শেষ হলেই আইসিইউ এবং উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহের অবকাঠামোর কাজ শেষ হবে। অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হলেও আইসিইউ চালু করার করার মত লোকবল নেই সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যার হাসপাতালে।
হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীর কর্মকর্তা জানান, আইসিইউ চালু করতে সিনিয়র কনসালটেন্ট একজন, জুনিয়র কন্সালটেন্ট দুইজন, ৬ জন অ্যানেসথেসিস্ট, ৬ জন মেডিকেল অফিসার, ২ জন নার্সিং সুপার ভাইজার এবং ৩০ জন প্রশিক্ষিত সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ১০ জন করে আয়া ও ওয়ার্ডবয়ের নতুন করে প্রয়োজন। এই লোকবল না হলে, অবকাঠামো নির্মাণ হলেও হাসপাতালে আইসিইউ সেবা বা উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ চালু করা যাবে না।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন বললেন, উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ ও আইসিইউ সেবা চালু না থাকায় করোনাকালে সুনামগঞ্জের অনেক আপনজনকে হারাতে হয়েছে। বুধবারও শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা চন্দনা দেব এই কারণে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেও সিলেট শহরেও তার জন্য আইসিইউ ম্যানেজ করতে পারি নি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আনিসুর রহমান বললেন, অক্সিজেন প্লান্টের ট্যাংকি বসানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিস্ফোরক শাখা থেকে অনুমোদনের প্রয়োজন আছে, এটি করতে ২১ দিন সময় লাগবে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইন্টার ন্যাশনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ২১ দিনের মধ্যে তারা অবকাঠামো উন্নয়নের সকল কাজ শেষ করতে পারবে। তবে আইসিইউ চালু করা বা উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহের জন্য আরও কিছু যন্ত্রপাতি যেমন আইসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লাগবে। এগুলোর জন্য আগামী শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি লিখবো। একইভাবে জনবল নিয়োগ না হলে সবকিছু করা হলেও আইসিইউ কিংবা উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। জনবল নিয়োগের জন্য ৩ দিন আগে একবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও নার্সিং অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আবার চিঠি দিয়েছি। ব্যক্তিগত যোযোগের চেষ্টাও হচ্ছে। সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা এই ব্যাপারে চেষ্টা করলে সুনামগঞ্জের মানুষ উপকৃত হবে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিরোধী দলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ বললেন, আমার আত্মীয় অতিরিক্ত সচিব এসএম এবাদুর রহমানের সহযোগিতায় বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে ইউনিসেফের মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রকল্পে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালকে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছিলাম। ইতিমধ্যে ১০ শয্যার আইসিইউ বেডের বেশিরভাগ কাজ হয়েছে। লিকুইড অক্সিজেন প্লান্টের ট্যাংক স্থাপন হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি লোকবল দ্রুত নিয়োগ দেবার আশ^াস দিয়েছেন। লোকবল নিয়োগ পেলেই আইসিইউ ও উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। আমি প্রায় প্রতিদিনই এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইসিইউ চালু করা যাবে।